ফরিদপুরে হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪
অ- অ+

ফরিদপুরের নগরকান্দায় হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব। এছাড়া ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত ১ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানাধীন ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের উত্তর পাশে ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় স্থানীয়রা এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়, পাশাপাশি মরদেহটির গলা কাটা ছিল।

নৃশংস এ ঘটনার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে র‌্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল, র‌্যাব-১২ এর সহযোগিতায় এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে এই হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম আলী মোল্লা। গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে তিনি আসামি ফিরোজ মিয়া ও তার শ্যালক মমরেজের সঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় অবস্থিত কৃষ্ণচূড়া ফিড মিলে যান। সেখানে মালামাল আনলোডের পর বিভিন্ন স্থানে লোড ও আনলোডের কাজ করেন তারা।

পরবর্তীতে ৩১ ডিসেম্বর রাতে আসামি ফিরোজ ও মমরেজ মদের বোতল সংগ্রহ করে কৌশলে আলী মোল্লার পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করেন এবং অচেতন হয়ে পড়েন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর আসামিরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে এলে কারণ জানতে চাইলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি আবার অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ট্রাক থামিয়ে নারায়ণখালী ব্রিজের নিচে নিয়ে গিয়ে আলী মোল্লার গলায় গুরুতর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা। পরে মরদেহটি ব্রিজের ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় ফেলে দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিহত আলী মোল্লার কাছে আসামি ফিরোজ ও মমরেজের পাওনা টাকা ছিল। এছাড়া মমরেজের ভাগ্নী—অর্থাৎ তার বোনের আগের ঘরের মেয়ের সঙ্গে আলী মোল্লার অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং এ সংক্রান্ত আপত্তিকর ভিডিও আলী মোল্লার কাছে ছিল। এসব কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আসামিরা।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের দুটি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব আরও জানায়, সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত অপরাধ দমনে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর। জনগণের সহযোগিতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সমুদ্রে অসাধারণ সাহসিকতার স্বীকৃতি, আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ
আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে: নাহিদ ইসলাম
দিনভর বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের দিলেন জরুরি নির্দেশনা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা