ভুয়া এনটিআরসিএ সনদে শিক্ষক নিয়োগ: পাঁচ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ, অর্থ বাণিজ্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে পাঁচজন অধ্যক্ষ ও সুপারের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সি আর মামলা নম্বর ৩৯৬/২০২৬ হিসেবে দায়ের করা এ মামলার বাদী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট পুনম সরকার (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) ও অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার সজল (ঢাকা জজকোর্ট)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছিলেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— মনতলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. বাকিউল ইসলাম, কোচের চর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামাল উদ্দিন, টিকিউ বালিকা মাদ্রাসার সুপার এমারত হোসাইন, শেখেরগাঁও জেড ইউ ফাজিল মাদ্রাসার সুপার একলাছ উদ্দিন এবং চন্দনবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু রায়হান ভূঁইয়া।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাকিউল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন, কামাল উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন, একলাছ উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে ৪ জন এবং এমারত হোসাইনের প্রতিষ্ঠানে ১১ জন শিক্ষক ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। সারাদেশে প্রায় ৫০০ জন এবং মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ১০০ জন ভুয়া শিক্ষক শনাক্ত হয়ে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বাদী কাজী শরিফুল ইসলাম এজাহারে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আসছেন। তার অনুসন্ধানে দেশে প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের তথ্য উঠে আসে। এ বিষয়ে তিনি ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর এনটিআরসিএ এবং ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের পর যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন ২৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল করা হয় এবং তাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তোলিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, এসব অনিয়ম প্রকাশের পর অভিযুক্তরা বাদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর একটি মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয় এবং তা ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং তাকে পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































