ভারী বর্ষণে চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩
অ- অ+

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে, আর সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এতে হাওড় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা অন্তত আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী, মগরা ও মনু নদী। এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। ভোলা ও ফেনীতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সংস্থাটি আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওড়াঞ্চলে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান ব্যাপকভাবে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় কাটা ধানও শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কৃষক মানিক সরকার বলেন, “রাতে বৃষ্টির পর সকালে দেখি সব ধান পানির নিচে। সাত বিঘার মধ্যে মাত্র এক বিঘা তুলতে পেরেছি।” একই উপজেলার কৃষক শাহিন মিয়া জানান, খলায় রাখা ধান পানিতে ভেসে গেছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, বাকিটা ঝুঁকিতে রয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে, স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে সেগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে জিনারিয়া হাওড়ে পানি ঢুকে শতাধিক কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষক নিকেশ সরকার বলেন, “ধারদেনা করে চাষ করেছি, সব শেষ হয়ে গেল।”

হবিগঞ্জে প্রায় ২৭১০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা।

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গাছ উপড়ে পড়া ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাত ও দেয়ালচাপায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সাগর উত্তাল থাকায় পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার—এই পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষা, দ্রুত ফসল কাটার উদ্যোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

(ঢাকাটাইমস/৩০ এপ্রিল/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সমুদ্রে অসাধারণ সাহসিকতার স্বীকৃতি, আইএমওর বীরত্ব পুরস্কার পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ
আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে: নাহিদ ইসলাম
দিনভর বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের দিলেন জরুরি নির্দেশনা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা