কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে উদ্ধার তৎপরতায় আনসার-ভিডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস:
  প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৯:১২
অ- অ+

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাহিনীটির সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা জারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করছেন।

আজ শনিবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছেন তারা।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে দলনেতা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বালুখালী ও পালংখালী এলাকার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য বন্যাকবলিত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নে ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার মো. নুরুল আমিনের নেতৃত্বে ভিডিপি সদস্যরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করছেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করছেন। পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পেকুয়া উপজেলায় ইউনিয়ন দলনেতা মো. শফিউল আজমের নেতৃত্বে সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। উপজেলা মহিলা আনসার প্লাটুন কমান্ডার সুফাইদা ইয়াসমিন সিলছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। টৈটং ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার ও দলনেত্রী হামিদা বেগম এবং বারবাকিয়া ইউনিয়নের দলনেত্রী হাসিনা বেগমও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করছেন।

চকরিয়া উপজেলায় আনসার কোম্পানি কমান্ডার মোক্তার আহমদের নেতৃত্বে সদস্যরা বন্যাকবলিত ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। এ সময় নৌকার মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, সড়কে পড়ে থাকা গাছ ও মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং সার্বিক দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মহেশখালী উপজেলায় ইউনিয়ন দলনেতা মো. আলমগীর, মো. জসিম উদ্দিন ও ওয়ার্ড দলনেতা নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা পাহাড়ি ও পানিবন্দী এলাকার মানুষ এবং গৃহপালিত পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্বাসনে সহযোগিতা, সড়কে পড়ে থাকা গাছ অপসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কীকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

আনসার-ভিডিপি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
৩০০ কোটি টাকা পরিশোধের পরও পাঁচ বছরে মেলেনি পুলিশের দুই হেলিকপ্টার, কারণ কী?
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে নৌবাহিনীর খাবার বিতরণ
‘এভেনজোর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
টেকনাফে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে পড়ে আহত মা হাতি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা