মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, যুক্ত হতে পারেন ৪ এমপি

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৯
অ- অ+

বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে সরকারের কাজের গতি বাড়াতে এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের চাপ কমাতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা চলছে। এতে নতুন করে চারজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হতে পারে বলে বিএনপি ও মন্ত্রিসভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আলোচনায় থাকা চারজন হলেন—মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ, কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন।

তবে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময় সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এই পর্যালোচনায় এখনই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র বলছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে।

এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে মন্ত্রীদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ফলে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে বাদ না দিয়ে সীমিত পরিসরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাই বেশি।

মন্ত্রিপরিষদের ওই প্রভাবশালী সদস্য বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে সব মন্ত্রণালয় রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে সেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়নের পর কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে বড় ধরনের ‘রদবদল’ নয়, বরং সীমিত পরিসরে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ হতে পারে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। আগামী দিনে মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৫ জন গ্রেপ্তার
মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশের
ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে: রিজভী
খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা