চুয়াডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে হাসপাতালে ২৬ জন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ মোট ২৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের সবাই বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ওই বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে খাওয়ার পর রাত থেকেই একে একে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুকের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭), তাদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮), একই উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫), তার মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫) এবং তাদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১) রয়েছেন।
এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিখনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২২), একই এলাকার দেলোয়ারের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩২), তাদের দুই ছেলে জনি (১১) ও রনি (১৫), একই উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইউনুচ আলীর স্ত্রী শিরিনা খাতুন (৪০), লিখনের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৬), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের গৌরীহ্রদ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী পারুলা বেগম (৪২), উপজেলার খাসকররা গ্রামের আলী আজগরের স্ত্রী পরিছন নেছা (৪৫), জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে জিহান (৫) ও জায়ান (১৩ মাস) এবং আসাদুল হকের মেয়ে আইভি খাতুন (২৩) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ছয়জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা পৃথক সময়ে গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গা থানা-সংলগ্ন ‘হাজী বিরিয়ানি হাউজ’ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত থেকেই একে একে তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তারা। বিরিয়ানি খাওয়া পরিবারের সদস্যদের সবাই একই ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পর্যন্ত তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে আসেন। রাতে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে সেই বিরিয়ানি খান। এরপর রাত ১২টার পর থেকেই তারা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বাড়িতে ভাত রান্না করার মতোও কেউ নেই। তার ধারণা, খাবারে কোনো সমস্যা ছিল। কারণ, যারা বিরিয়ানি খেয়েছেন, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাসায় এসেছিলেন। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর থেকেই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হলে পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, একই বিরিয়ানি খেয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। সমস্যা হলে দু-একজনের হতে পারে। কিন্তু একাধিক মানুষ যখন একইভাবে অসুস্থ হয়েছেন, তখন তার ধারণা বিরিয়ানিতে কোনো সমস্যা ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার রাতে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা বিরিয়ানি খাওয়ার পরদিন সকাল থেকেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। এমনকি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিছানায় মল ত্যাগ করে ফেলে ছেলে। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিজানুর রহমান বলেন, কি কারণে এমন ঘটেছে আমিও বুঝতে পারছি না। কেউ কি ইচ্ছাকৃতভাবে এতোগুলো মানুষকে খারাপ খাবার খাওয়াবে? তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের বিষয়ে বলেন, ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে। বাকি লাইসেন্স দ্রুত করা হবে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদ বলেন, খাদ্যে পয়জনিংয়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ওইদিনের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। নমুনা পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যেত।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাজী বিরিয়ানি হাউজে অভিযানে গিয়েছিলেন। সেখানে খাবারের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন দ্রুত করার জন্যও বলা হয়েছে।
(ঢাকা টাইমস/৩সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































