৪০ বছর ধরে মহাকাশে নাসার ভয়েজার

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৫:৩০ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১৫:২৭

৪০ বছর ধরে মহাকাশে একটানা ভেসে আছে নাসার ভয়েজার। ১৯৭৭ সালের ২০ আগস্ট ভয়েজার ২ মহাশূন্য ভ্রমণে যায়৷ ১৬ দিন পরে রওয়ানা হয় ভয়েজার ১৷ দুই মহাকাশযানই এতদিনে সৌরজগতের বাইরে পাড়ি দিয়েছে৷ ছায়াপথে নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে শুরু করেছে যাত্রা ৷

এই মহাকাশ যাত্রার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল প্রায় অজানা দুই গ্রহ বৃহস্পতি ও শনি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা৷ দীর্ঘস্থায়ী প্লুটোনাম ব্যাটারির বদৌলতে দুই মহাকাশযানই এখনও চলছে৷

৮২৫ কেজি ওজনের (পৃথিবীতে) এই ভয়েজার যান দু’টি নাসার সবচেয়ে সফল মিশনগুলোর একটি৷ এখনও দুই মহাকাশযান নিয়মিত তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে যাচ্ছে৷ প্রতিনিয়তই ক্রমাগত দূরে সরে গেলেও ২০৩০ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে ভয়েজার৷

২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ভয়েজার ১ সৌরজগতের সীমানা ‘হেলিওপজ’ অতিক্রম করে৷ ওখান থেকেই শুরু আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ের আন্তনক্ষত্রীয় এলাকা৷ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত মানবনির্মিত বস্তুর নাম এখন ভয়েজার ১৷ সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যত, এই মুহূর্তে ভয়েজার তার চেয়ে ১৩৯ গুণ বেশি দূরে অবস্থান করছে৷

সৌরজগতে বেশ কয়েকটি সীমানা আছে৷ প্রথম সীমানার নাম ‘টারমিনেশন শক’৷ এখান থেকে সৌর বায়ুর চাপ হঠাৎ করেই কমতে থাকে৷ তারপর হেলিওস্ফেয়ার অতিক্রম করে আসে ‘হেলিওপজ’৷ এখানে শেষ হয় সৌরজগতের প্রতিরক্ষা ব্যুহ যা আমাদের আন্তনক্ষত্রীয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করে৷ নাসার হিসেবে হেলিওপজ অতিক্রম করার পর প্লাজমার ঘনত্ব বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ গুণ৷

মহাকাশযানটি সম্প্রতি বেশকিছু আবিষ্কার করেছে৷ বৃহস্পতির এই ছবিটি ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি পাঠায় ভয়েজার ১৷ বৃহস্পতি ও তার চার উপগ্রহের মোট ১৭,৪৭৭টি ছবি তুলেছে মহাকাশযানটি৷ এই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেই বৃহস্পতির চারপাশে শনির মতোই গ্যাসের পাতলা রিং-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে৷

শনি গ্রহের এই ছবিটি পাঠিয়েছে ভয়েজার ২৷ ১৯৮১ সালে শনির কাছাকাছি পৌঁছায় ভয়েজার৷ মহাশূন্যের অনুপাতে এটি খুব কাছ থেকে তোলা একটি ছবি৷ এই ছবি তোলার সময় ভয়েজার ২ শনি গ্রহ থেকে মাত্র ২ কোটি ১ লাখ কিলোমিটার দূরে ছিল৷

যুক্তরাষ্ট্রের পাসাডোনিয়ায় ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে যতদূর সম্ভব পরিচালনা করা হয় ভয়েজারের কর্মকাণ্ড৷ যেমনটি দেখা যাচ্ছে ১৯৮০ সালের এই ছবিটিতে৷ এখন যন্ত্রপাতি আরো অনেক আধুনিক হয়েছে৷ কিন্তু অবসরে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না ভয়েজার প্রস্তুত করা প্রকৌশলিরা৷ এখনও মাঝেমধ্যেই নবীনদের দিকে সহায়তার হাত বাড়াতে হয় তাদের৷

এই ছবির মতো গ্রহের পরিবেশ ও জলবায়ু বিশ্লেষণ করা যায়, এমন অনেক তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছে ভয়েজার ১৷ বৃহস্পতিকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগুনোর সময় ভয়েজারের গতি ছিল সেকেন্ডে ১৬ কিলোমিটার৷

যাত্রাপথে যদি কখনও প্রাণের দেখে মেলে, সেজন্য আগে থেকেই দু’টো সোনার ডিস্ক ভরে দেখা হয়েছে ভয়েজারে৷ এই ডিস্কগুলোতে মানুষ, পশুপাখি এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি ও শব্দ রেকর্ড করে দেয়া হয়েছে৷ অ্যালিয়েনরা যদি রেকর্ড প্লেয়ার না চালাতে পারে, সেজন্য কীভাবে রেকর্ড প্লেয়ার বানাতে হয়, তারও একটা নকশা দেয়া আছে ডিস্কের সাথে৷

দশকের পর দশক ধরে মহাকাশভক্তদের অভিভূত করে গেছে ভয়েজার৷ ভয়েজারের যাত্রায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেক শিল্পীও৷ ১৯৭৭ সালে, ঠিক যাত্রা শুরুর আগে, ভয়েজারের শনিগ্রহ পাড়ি রং-তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন এক মার্কিন শিল্পী৷

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত