উৎসবের শেষে ত্বকের যত্ন

তানিয়া আক্তার, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৩৩

ঈদ আসে উৎসবের বারতা নিয়ে। এর রেশ রয়ে যায় আরো কিছু দিন। এদিক-সেদিক বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপার থাকে। বিয়ের মতো জমকালো আয়োজনও বেশি থাকে এই সময়ে। আর এমন উৎসব মানেই তো বাড়তি সাজগোজ। মুহূর্তগুলো রঙিন করে তুলতে হাজারো চেষ্টা থাকে। কিন্তু বিশেষ দিনটি শেষ হলে ত্বকের নিবিড় চর্চা করতে হবে। আয়োজনের ব্যস্ততায় যাদের রান্নাবান্নায় সময় দিতে হয় বেশি, তাদেরও ত্বকের যত্ন আলাদা করে নিতে হবে।

ঈদের পরে ত্বকের যত্ন প্রসঙ্গে রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তৈলাক্ত ত্বকের মুখ অবশ্যই দিনে চার-পাঁচবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। শুষ্ক প্রকৃতির ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার করতে হবে। তবে মানানসই না হলে শিশুদের ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যাবে। আর মিশ্র প্রকৃতির ত্বক হলে মুখ পরিষ্কার করার পর মুখ থেকে গলা পর্যন্ত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তোয়ালের সাহায্যে ত্বক হালকাভাবে মুছে নিন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখুন। পরিষ্কার ত্বক সুস্থ ও সুন্দর থাকে।’

মুখের কথা

ঈদের সময়টিতে আগুনের আঁচে মুখের ত্বকেও প্রভাব পড়ে। আবার কাজের চাপ ও যতেœর অভাব এবং পানি কম পানের কারণেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কিংবা অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে শুষ্ক ত্বকের যতেœ টকদই, চন্দন, অ্যালোভেরা একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টমেটো, মধু, নিমপাতা, মসুর ডাল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে লাগান। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে। অনেকের মিশ্র ত্বক চুলার আঁচের সংস্পর্শে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে এবং মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ ক্ষেত্রে কচি ডাবের শাঁস, কমলার রস, বেসন ও কালো জিরার তেল একত্রে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি থাকেই। আপেল, কলা, বেদানা, পাকা পেঁপে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। সংরক্ষণ করতে চাইলে কাচের কৌটায় করে ফ্রিজে রাখুন। মুখে লাগানোর আগে মিশিয়ে নিন বেসন অথবা চালের গুঁড়া। শুষ্ক ত্বকের জন্য শসার পরিবর্তে গাজর দিন। এই ফেসপ্যাক ত্বকে ব্যবহারে লোমকূপ পরিষ্কার হবে। ত্বক ভালো ও উজ্জ্বল হবে। ক্লান্তিতেও অনেক সময় চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে। তাই মাঝেমধ্যেই আলু, টমেটো ও শসার রস লাগিয়ে রাখুন। ক্লান্তি কমবে।

ঠোঁটের সৌন্দর্যে

ঠোঁট ফাটা, চামড়া উঠে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা লিপবাম ব্যবহার করুন। নিয়মিত বাইরে যাওয়ার সময়ও এগুলো সঙ্গে রাখতে পারেন। এছাড়া কালো ঠোঁটের সমস্যারও সমাধান দিয়েছেন আফরোজা পারভীন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, গোলাপের পাপড়ি মধু দিয়ে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগানোর পর বেশ কিছুক্ষণ ঠোঁটের সংস্পর্শে রেখে দিতে হবে। মিশ্রণটি ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে আবার লাগান। তবে মিশ্রণের কিছু অংশ যদি আপনার মুখের ভেতরে চলে যায়, তাতেও ক্ষতি নেই। লিপস্টিকটি অবশ্যই ভালো ব্রান্ডের হওয়া চাই।

হাতের কাজ, পায়ের সুরক্ষা

নখ সৌন্দর্যের অনেকখানি ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু সতর্ক না থাকলে উল্টে বা ভেঙে গিয়ে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে। কারণ মাংস কাটা-ধোয়া, প্যাকেটজাত ও রান্না করতে গিয়ে অনেকের নখ ভেঙে যায়। তাই ঈদ পরবর্তী সময়গুলোতে নখ ছোট রাখাই ভালো। আবার মাংস কাটা ও বাছার কারণে হাতজুড়ে আঁশটে গন্ধ থেকে যায়। সেক্ষেত্রে হাতে সামান্য হলুদের গুঁড়া মেখে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে গন্ধ চলে যাবে। তবে অবশ্যই একবার ম্যানিকিউর করে নেওয়া ভালো। পায়ের যতœ চাইলে বাড়িতেও সেরে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গোসলের আগে কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ, কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু দিয়ে পা ভিজিয়ে রেখে পামস্টোন দিয়ে ঘষে পায়ের ময়লা ও মরা কোষ তুলে ফেলে দিতে হবে। এরপর কিউটিক্যাল কাটার দিয়ে নখের পাশের কিউটিক্যাল ফেলে দিয়ে ব্রাশে অল্প শ্যাম্পু লাগিয়ে হাত-পায়ের নখ পরিষ্কার করে পানি দিয়ে হাত-পা ধুয়ে যেকোনো প্যাক লাগান। গোসল শেষে হাত-পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাতে লোশন লাগান। আর ভালো ব্র্যান্ডের নেইলপলিশ ব্যবহার করতে হবে।

জেনে নিন

পরিমিত বিশ্রাম: ঈদের দিনগুলোজুড়েই নানা ধকল সইতে হয়েছে। তাই এবার সময় নিজেকে পুরোপুরি বিশ্রাম দেওয়ার। যতটা সময় পারেন গান শুনে, নিজেকে সময় দিয়ে কাটান।

খাবারদাবার: ত্বক ভালো রাখতে হলে খাবারদাবারের ব্যাপারেও থাকতে হবে সচেতন। উৎসবের আমেজে খাওয়া-দাওয়া তো চলবেই। তবে যে খাবারে অ্যালার্জি আছে, তা পরিহার করতে হবে। বিরিয়ানি- পোলাও থেকে এবার নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে রাখুন। গুরুপাক খাবার ভরপেট খাবেন না। পেটের খানিকটা অংশ খালি রেখেই পানি ও খাবার খাওয়া শেষ করুন। শাক-সবজির দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। সহজে হজম হবে এমন সব খাবার খান।

পর্যাপ্ত পানি: ঘুরে বেড়ানো কিংবা কাজের চাপে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। সারা দিন দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করুন। পরিশ্রম বেশি হলে পানির পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১২সেপ্টেম্বর/টিএ/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত