নতুন সিনেপ্লেক্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত তারকারা

রুদ্র রুদ্রাক্ষ
 | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৭

ধানমন্ডির  সীমান্ত স্কয়ারে চালু হয়েছে নতুন সিনেপ্লেক্স। শনিবার বিকেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে স্টার সিনেপ্লেক্সের এই নতুন শাখা। এটির উদ্বোধন করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। সেসময় সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার  মাহবুবর রহমান রুহেল সহ উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই শোবিজের একঝাক তারকা। রোববার থেকে সর্বসাধারণের প্রদর্শনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন এই সিনেপ্লেক্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

এদিকে স্টার সিনেপ্লেক্সের এই উদ্যগে উচ্ছ্বসিত তারকারা। ঢাকাই সিনেমার এক নাম্বার সুপারস্টার শাকিব খান রবিবার ঢাকা টাইমসকে বলেন, "নতুন এই সিনেপ্লেক্স আমাদের স্বপ্নবাস্তবায়নের আরও একটি ধাপ পাড় করে দিল। সিনেমার মানুষ হিসেবে আমরা সবসময় চেয়েছি সিনেমার জন্য মঙ্গলজনক কিছু হোক। আমি তো বরাবর বলে আসছি আমাদের মান সম্মত হল চাই, প্রতিটি জেলায় একটি করে সিনেপ্লেক্স চাই। মানুষ বলে আমাদের সিনেমার দর্শক কমে যাচ্ছে বলেই হল কমে যাচ্ছে। আমি বলবো মানসম্মত হল কমে যাচ্ছে বলে দর্শক কমে যাচ্ছে। আর আমার এই কথাটা শুধু যে অনুমান নির্ভর তা যে নয় এটির প্রমাণ মেলে সিনেপ্লেক্সের নতুন এই যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে। দর্শক না থাকলে তারা আরও একটি সিনেপ্লেক্স কখনই বানাতো না। আমাদের প্রচুর দর্শক আছে যারা আধুনিক হলের অভাবে হলবিমুখ হচ্ছে। আমি চাই সরকারী বেসরকারী উদ্যগে এদেশে আরও অনেক সিনেপ্লেক্স হোক। অন্তত প্রতি জেলায় একটি করে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের পক্ষে আমি''।

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান স্টার সিনেপ্লেক্সের এই নতুন উদ্যগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "আমাদের সিনেমার বাঁকবদল হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন মৌলিক গল্প নিয়ে সিনেমা হয়। দর্শকের অভাব নেই আমাদের। শুধু মাত্র মানসম্মত পরিবেশের অভাবেই অনেকে সিনেমাবিমুখ হয়ে পড়ছে। সিনেপ্লেক্স আধুনিক সময়ের দাবি। সময়কে অস্বীকার করার সাধ্য কিন্তু আমাদের কারোই নেই। সময়কে মেনে নিয়ে সিনেমা হলের আধুনিকায়ন খুবই জরুরি। এটা আমাদের সিনেমাশিল্পকে টিকিয়ে রাখার প্রধান মেডিসিন বলে মনে করে আমি''।

সময়ের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। 'ঢাকা এ্যাটাক' খ্যাত এই অভিনেতাও সিনেপ্লেক্সের এই যাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শুভ বলেন, "আমরা সারাদিন বলি সিনেমার দর্শক কমে যাচ্ছে সিনেমার দর্শক কমে যাচ্ছে। কিন্তু একবারের জন্যও কারণ অনুসন্ধান করি না। কেন কমে যাচ্ছে সিনেমার দর্শক? আমাদের এখানে তো এখন প্রচুর ভালো মানের সিনেমা হয়! কিন্তু দর্শক সিনেমা কোথায় গিয়ে দেখবে সেটাও কিন্তু একটা বিষয়। স্যাতস্যাতে পরিবেশে বসে রুপালী পর্দায় ভেসে যাওয়াটা কিন্তু সুখকর নয়। এটার একটা গভীর মনস্তাত্বাত্তিক ব্যাখা আছে। আপনাকে সিনেমার গল্প সিনেমাটিক পরিবেশেই দেখাতে হবে যদি চান পুরোটা সময় একজন দর্শক দৃশ্যের অলিগলি ধরে ঘুরে বেড়ায়। সেই যায়গা থেকে শুধু সিনেপ্লেক্স নির্মাণই যে একমাত্র সমাধান আমি তা বলতে চাই না। আমি বলতে চাই সিনেপ্লেক্স নির্মাণের পাশাপাশি আমাদের অন্য যে সিনেমাহল গুলো আছে তার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য মালিকপক্ষ যেন একটু আন্তরিক হয়। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, মানুষকে জানান আপনার হলের পরিবেশ উন্নত মানুষ বাধ্য হয়ে আপনার হলে যাবে। এই দেশের মানুষ সিনেমা ভালোবাসে বলেই কিন্তু আজকে আমরা তারকা হয়েছি। সুতরাং দর্শককে দোষ না দিয়ে হল দিন''।

প্রথম সপ্তাহে এই মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের ছবি 'দেবী', হলিউডের ছবি 'আকুয়াম্যান', 'রেপ্লিকাস' ও হলিউডের অ্যানিমেশন ছবি 'স্পাইডারম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স'।

সীমান্ত সম্ভারের দশম তলায় নির্মিত এই মাল্টিপ্লেক্সে রয়েছে তিনটি প্রদর্শনী কেন্দ্র। প্রতিটিতে আসনসংখ্যা প্রায় ২৬০। তিনটি হলের মধ্যে দুটি সিলভার স্ক্রিনের, আরেকটি সিলভার স্ক্রিনসহ অ্যাটমস ডলবি সাউন্ড সিস্টেমসমৃদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :