পলাশ-শিমুল রক্ষার দাবি পরিবেশবিদদের

মনোনেশ দাস, ময়মনসিংহ
| আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৭, ১০:২৭ | প্রকাশিত : ০৯ মার্চ ২০১৭, ০৯:৪১

ময়মনসিংহ জেলার সর্বত্র মার্চ এলেই প্রকৃতির কুঞ্জবনে ঝিলিক দিত আগুনরঙা ফুলকারি সুষমায়। চিরচেনা শিমুল, পলাশ ফুলে ভ্রমরের নিরন্তর ওড়াউড়ি বসন্তবাহারের অসামান্য ফুলকারি সুষমায় ছেঁয়ে থাকত মধুমাস। ফুলের রঙের সাহচর্যে মনও কখন যেন রাঙা হয়ে উঠত। ফাগুনবিলাসী মন তখন উদাস বাউল। ফাগে আর রঙের মাতনে সেজে উঠতে চাইত মন।

সেই পলাশ আর শিমুল ফুল এখন আর চোখে পড়ে না। জেলার গ্রাম-গঞ্জ এমনকি শহরের আনাচে-কানাচে চিরচেনা প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পলাশ, শিমুল গাছ এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই ফুলদ্বয়কে সম্বোধন করা হতো অগ্নিশিখা। পলাশ, শিমুলের দামাল আগুনরঙা উপস্থিতি এলোমেলো করে দিত ফাগুনঋদ্ধ মন। ‘রং রসিয়া’ আবেগে ভরাট হতো মার্চ মাস। এই মধুমাস যতক্ষণ থাকত, মনে আর বনে তখন ফাগুয়ার রৌণক ছড়াত।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই ফুল দুটি বিলুপ্তি হওয়ার কারণ নির্বিচারে ধ্বংস ও ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার। তাছাড়া নেই নতুন করে এ গাছ দুটি সৃজনের উদ্যোগ। টিকে থাকা অবশিষ্ট গাছগুলোরও হচ্ছে না যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ।

শিমুল পলাশ বসন্তের প্রতীক। রঙভরা বসন্তে শিমুল ও পলাশের বিশাল দখলদারিত্ব। শিমুল পলাশ ফুটলেই বোঝা যায় ফাগুনে বনে আগুন লেগেছে।

তাছাড়া ফাল্গুন মাসে একটা জৈবিক উপযোগিতা আছে, এমনই মনে করেন পরিবেশবিদরা। প্রকৃতির ঋতুচক্রে এই সময় শীতঋতু শেষ হয়ে বসন্ত ঋতুর আগমন ঘটে। জলবায়ু ও আবহাওয়ার রদবদল ঘটে। শীতের পাতাঝরা গাছের ডালে ডালে নতুন কচি পাতা, মুকুল আসে। আকস্মিক ঋতু পরিবর্তনের জন্য মানবশরীর ভারসাম্যে অভ্যস্ত হওয়ার আগেই জ্বর, সর্দি, কাশি, গা ব্যথা, গলা খুসখুসজনিত ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে থাকে।

তখন পলাশ শিমুল আয়ুর্বেদিক তথা ভেষজ এই গাছের কুসুম, গুল্ম থেকে সনাতনী প্রথায় রস নিংড়ে গায়ে লেপন করলে ভাল ফল পাওয়া যেত। এক সময় এগুলো ব্যবহৃত হতো মহামারি বসন্তরোগের প্রতিরোধক হিসেবেও।

নতুন করে পলাশ-শিমুল গাছ রোপনের মাধ্যমে প্রজাতি রক্ষা এবং জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবশিষ্ট গাছগুলো সংরক্ষণের দাবি পরিবেশবাদী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।

(ঢাকাটাইমস/৯মার্চ/ব্যুরো প্রধান/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :