প্রাইম এশিয়ার শিক্ষার্থীরা কেউ বেকার নেই

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৬

রাজধানী ঢাকার বনানীস্থ প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ কে এম আশরাফুল হক, এফসিজিএ সম্প্রতি তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকে অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষত্ব নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক ঢাকা টাইমসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নজরুল ইসলাম।

প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শুরুটা কেমন ছিল?

আমি এখানে ২০০৬ সালে অর্থ ও হিসাব বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করি। তখন এসে যেটা দেখলাম, শিক্ষার্থীর সংখ্যা তেমন একটা ছিল না। সব মিলিয়ে হাজারখানেকের উপরে হবে। ওই সময়টাতে বনানীর মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ক্যাম্পাস চালানো খুব কঠিন ছিল। প্রথম দিকের কঠিন সময়টা পার করতে শুরু করি ২০০৯ সাল থেকে। পরবর্তীতে আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হতে শুরু করে।

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব কী?

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বড় দিক হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্বীকৃতি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দিক গুণগত শিক্ষা প্রদান। মানসম্মত পড়ালেখা ও পরীক্ষা পদ্ধতি খুবই যথাযথভাবে পরিচালিত হয়। এখানে পড়ালেখা না করে পাস করার কোনো সুযোগ নেই। এখানে শিক্ষার গুণগত মানের ব্যাপারে কোনো আপোস করা হয় না। এ বিষয়টি আমরা শুরু থেকে গুরুত্বের সাথে এ পর্যন্ত ধরে রেখেছি, যে কারণে আমাদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়িনি। আমাদের এখানে এমন সব যুগোপযোগী বিভাগ রয়েছে যেটা বাংলাদেশে বিরল। তার মধ্যে পাবলিক হেল্থ নিউট্রিশন, এটা বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কেবল আমাদের এখানেই আছে। তবে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মূলত টেক্সটাইলের কারণেই বেশি বিখ্যাত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি ও মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স ও মাস্টার্স এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের পড়াশোনায় বিশ্বমানের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়।

গবেষণাকে প্রাইম এশিয়া কতটুকু গুরুত্ব দেয়?

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মূল উপপাদ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনায় রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের পড়ানো বিষয়গুলো কর্মমুখী হওয়ায় সবই ল্যাবরেটরি-নির্ভর। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের সংখ্যা সরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি রয়েছে। এটা বাংলাদেশের মধ্যে গর্ব করার মতো ব্যাপার। আমাদের টেক্সটাইল বিভাগে যেসব ল্যাব রয়েছে; বাস্তবিকভাবেই একটা ফ্যাক্টরির মতো। প্রকৃতপক্ষে নিটিং ও ডাইং ফ্যাক্টরির আদলে করা। ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের ল্যাবগুলোও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত। এটাকে আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের সব বিভাগেই গবেষণাকর্মকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনিক পরিচালনায় কী ধরনের কৌশল প্রয়োগ করবেন?

সাম্প্রতিক সময়ে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজে একটা পরিবর্তন এসেছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ প্রায় সকলেই তরুণ, উদ্যমী ও শিক্ষানুরাগী এবং তাদের উদ্দেশ্য একটাই যে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগের অবস্থানের চেয়ে প্রায় শতকরা ২০ ভাগ প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। বর্তমান ম্যানেজমেন্ট নতুন করে সবকিছু ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে যারা কাজ করতে আগ্রহী এমন সব তরুণ এবং মেধাবীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস করার বিষয়ে কত দূর অগ্রসর হয়েছেন?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস একটা বড় ইস্যু। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকলে শিক্ষার্থীদের খুব অসুবিধে হয়। আমাদের ক্যাম্পাস নিয়ে যে সমস্যা ছিল সেটা কেটে গেছে। আমরা চলতি বছরই স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শুরু করব। এ জন্য ইতোমধ্যে আমাদের ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আশা করি আমরা খুব শিগগির রাজউকের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারব। স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের জন্য জরুরি, কারণ নতুন নতুন কিছু অনুষদ ও বিভাগ অনুমোদনের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

গুণগত দিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু এগিয়ে? প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে বলুন।

গুণগত দিক বিবেচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক দূর এগিয়েছে। বিশেষ করে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত মান বজায় রেখে অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এটাও ঠিক যে, সব বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত শিক্ষাদানে কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে পারেনি। গুণগত মান বিবেচনায় প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সামনের সারিতে রয়েছে। আমাদের অবকাঠামোগত ধারণক্ষমতা খুব ভালো। আমরা চেষ্টা করছি গুণগত মানকে প্রাধান্য দেওয়ার।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরকার থেকে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

সরকার থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রধানত সংগ্রাম করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নিয়ে। বিদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে নামমাত্র মূল্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা দেয় সরকার। আমাদের সরকার যদি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গা দিয়ে সহায়তা করে, তাহলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে মানসম্মত শিক্ষা বা গুণগত মানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে যেত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সরকার এই বিষয়ে কিছুটা সুদৃষ্টি দিলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তা অনেক আশা সঞ্চার করবে। বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট একটা অর্থ বরাদ্দ রাখা উচিত। তাহলে গবেষণাকর্মেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।

কর্মক্ষেত্রে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেমন করছে?

আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। আমাদেরই শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্বদ্যিালয়ের মতো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ালেখা করে দেশের স্বনামধন্য কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নির্বাহী পরিচালকের পদেও রয়েছে। উদোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে টেক্সটাইল সেক্টরে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এক কথায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে কেউ বেকার নেই- এটা আমরা গর্ব করে বলতে পারি।

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমাদের নতুন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের লক্ষ্য হলো আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রাইম এশিয়াকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে নিতে সব ধরনের গুণগত মান বজায় রাখতে পারবো আমরা। এ জন্য গবেষণা কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ল্যাবগুলো আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করা হবে। এ বিষয়গুলো যদি আমরা সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারি তবেই আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :