জামায়াত নিয়ে ভাবছে না বিএনপি ও শরিকরা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩২ | প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:২৬

দল সংস্কার আর একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নিয়ে নেতাদের পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ঘটনায় জামায়াতের অস্থিরতাকে দলটির নিজস্ব বিষয় বলে মনে করছে বিএনপি ও অন্য শরিকরা। জামায়াত যে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি দলটির স্বাধীনতা, আর তাতে জোটে কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন শরিক দলের নেতারা।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে অন্য শরিকদের মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও কর্মী-সমর্থক বেশি থাকায় আলাদা গুরুত্ব ছিল দলটির। কিন্তু বহুদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দল হিসেবে জামায়াত প্রায় বিলুপ্ত। যুদ্ধাপরাধ মামলায় শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পর নিষ্ক্রিয় দলটিতে এখন চলছে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ঘটনা। গুঞ্জন আছে আরো বেশ কজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগ করতে পারেন। দলটির জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথাও গণমাধ্যমে এসেছে।

এসব কারণে জোটে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে জামায়াত। তাদের জোট ছেড়ে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে তেমন কোনো ভাবনা নেই বিএনপিতে। এমনকি জামায়াতের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তকে পাত্তা দিচ্ছে না অন্য শরিকরা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দল সংস্কার চাওয়া বা জোট থেকে জামায়াতের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তাদের আছে। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এ নিয়ে কোনো কিছু ভাবছে না বিএনপি।

তবে জামায়াতে কী হচ্ছে, সামনে কী হতে পারে- এসব বিষয়ে তারা নজর রাখছেন বলে জানান বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জোটসঙ্গী। সুবিধা-অসুবিধা হয়তো ছিল, কিন্তু হঠাৎ তারা জোট ছেড়ে যাওয়ার কথা কেন বলছে সেটা দেখতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান জামায়াতের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি জামায়াতের জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত হলে সেটা বিএনপির জন্য ভালো হবে। বিএনপি তো মুক্তিযোদ্ধাদের দল।’ এই সিদ্ধান্ত আরো আগে হলে ভালো হতো বলেও মনে করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকে জামায়াতের এসব বিষয়ের কথা শুনছি। তারা তো আমাদের কিছু জানায়নি। জানানো হলে এ নিয়ে কথা বলা যেত।’

১৯৯৮ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জামায়াত। জোটগতভাবে নির্বাচনে গিয়ে ২০০১ সালে তারা ব্যাপক জয় পায়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই জোটের ভরাডুবি হয়। তবে অনেক আগে থেকেই জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে বিএনপির ওপর চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও দশম সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী সহিংসতার ঘটনার পর থেকে জামায়াত ছাড়ার চাপ বাড়তে থাকে।

বিএনপি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে জামায়াতের সঙ্গে তাদের  দূরত্ব বাড়তে থাকে। সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে জামায়াতের দূরত্ব অনেকটা দৃশ্যমান হয়। দুই কূল রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় বিএনপির।

এরই মধ্যে জামায়াতের শীর্ষ পর‌্যায়ের বৈঠকে বিএনপির জোট থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা যায়। এ ক্ষেত্রে নিজে থেকে ঘোষণা না দিয়ে জোটের কার‌্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে জামায়াত।

দলের এই টানাপোড়েনের মধ্যে জামায়াতের সংস্কার ও ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় দল থেকে পদত্যাগ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। দলের প্রভাবশালী এই নেতা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জামায়াতের সংযোগ রক্ষার কাজটি করতেন বলে প্রচার আছে।

দলের সংস্কার চাওয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে মজলিসে শূরার সদস্য মজিবুর রহমান মঞ্জুকে। একই কারণে আরো অনেক নেতা পদত্যাগ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আরও জানা যাচ্ছে, নতুন নামে জামায়াতের পুনর্গঠন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতদ্বৈধতা চলছে।

বিএনপি জোটের শরিক এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জামায়াত নতুন নামে দল গঠন করার জন্য হয়তো কাজ করছে। জোটে থাকা-না থাকা সেটাও তাদের সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।’

জামায়াত সরে গেলে জোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম আমিনুর রহমান। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘জামায়াত একটি শরিক দল। তাদের যে অভ্যন্তরীণ সংকট চলছে সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। জোটের পক্ষ থেকে কোনো বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য ও সহযোগিতা করার সুযোগ নেই। আমরা পর‌্যবেক্ষণ করছি।’

আর বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা চান জামায়াত তাদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করুক। জোটে জামায়াত থাকলেও সমস্যা নেই, না থাকলেও সমস্যা নেই। এ নিয়ে তারা ভাবছেন না।

(ঢাকাটাইমস/১৮ফেব্রুয়ারি/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :