মাহে রমজানে তাকওয়ার প্র্যাকটিস

মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন মিসবাহ
 | প্রকাশিত : ০৮ মে ২০১৯, ১৯:৫৩

‘তাকওয়া’  শব্দটি আরবি কুউওয়াতুন থেকে নির্গত। অর্থ শক্তি। তাকওয়া বলতে সেই মানসিক শক্তি অর্জনকে বোঝায় যার মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা পাপ পঙ্কিলতার পরিবেশে থেকেও পাপের হাতছানি  থেকে বাঁচতে পারে। তাকওয়ার একটি ঘটনা বুখারি শরিফে উল্লেখ আছে। এক যুবক তার প্রতিবেশী বোনের সম্মতিতেই ব্যাভিচারে লিপ্ত হবে। সব প্রস্তুতি নেয়ার পর মেয়েটি আর্তনাদ করে উঠলো, ইন্নি আখাফুল্লাহ। আমি আল্লাহকে ভয় পাই। যুবক ধাক্কা খেল। সত্যি তো! এই নির্জন স্থানে কেউ আমাদেরকে না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন। এই যে সামর্থ্য সুযোগ থাকার পরেও আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এর নাম তাকওয়া।

চিন্তা করুন, দীর্ঘ সময় আমরা সিয়াম পালন করি। ইচ্ছা করলে লুকিয়ে হলেও আমরা খাবার খেতে পারি। কোনো একজন পানিতে ডুব দিয়ে পানি পান করতে পারি। সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে আসে, লোভনীয় সব খাবার সামনে নিয়ে আমরা নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় থাকি। একটু আগেও আমরা খাবার গ্রহণ করি না। এরই নাম তাকওয়া।

মানুষ দুটি অঙ্গের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গুনাহে লিপ্ত হয়। এক. মুখ; দুই. লজ্জাস্থান। মাহে রমজান আমাদেরকে এই দুটি অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করার প্র্যাকটিস শেখায়।

দিনের বেলায় অন্য সময়ে হালাল খাবার খাওয়ার অনুমতি রয়েছে। অনুমতি রয়েছে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে হালাল উপায়ে একত্রবাসের। কিন্তু মুমিন বান্দা আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এই হালাল কাজটি পরিত্যাগ করে এই রমজান মাসে। এরই নাম তাকওয়া। এভাবে যে লোক আল্লাহর নির্দেশে হালাল কাজটি ছেড়ে দিতে পারে, তার জন্য চিরস্থায়ী হারাম কাজ পরিত্যাগ করা কতই না সহজ। যে ব্যক্তি পানি পান করা ছাড়তে পারে তার জন্য মদ ছেড়ে দেওয়া কি খুব কষ্টের?

যে লোক হালাল খবার ছেড়ে দেয় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভয়ে সেতো সহজেই সুদ ঘুষ অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পত্তি গ্রাস করা ছেড়ে দিতে পারে। যে বান্দা আল্লাহর নির্দেশে নিজের স্ত্রীকেও ছুঁয়ে দেখে না, সেতো অনায়াসেই ব্যভিচার ছেড়ে দিতে পারবে। এই প্র্যাকটিস সারা মাস যাবত আমরা মুমিনরা করে থাকি। এই শিক্ষাটা যদি মুমিন বান্দাহরা আত্মস্থ করতে পারে তাহলে একটি তাকওয়াপূর্ণ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠিত হবে। মানুষ দুনিয়াতেই ফিরে পাবে জান্নাতি পরিবেশের নমুনা। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের মুখ আর লজ্জাস্থান হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

লেখক: মুহাদ্দিস, মারকাযুল উলুম আশ্ শারইয়্যাহ সাভার, ঢাকা

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :