আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানা মামলায় চার্জশিট গ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৯, ১৭:৫০

পুরান ঢাকার আজিমপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে গ্রেপ্তার তিন নারীর বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং আগামী  ১৬ জুন চার্জগঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন।

আসামিরা হলেন জেএমবির অন্যতম সমন্বয়ক তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি এবং বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের স্ত্রী শায়লা আফরিন।

এছাড়া ট্রাইব্যুনাল আসামি তানভীর কাদেরী মারা যাওয়ায় এবং সন্দেহমূলক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার শাহনাজ আক্তার রুমিকে তদন্ত কমকর্তার আবেদন অনুযায়ী অব্যাহতি দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ১১ জুন কাউন্টার টেরোরেজম ইউনিট বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আহসানুল হক ওই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে আসামি তাহরীম কাদেরী ওরফে রাসেলের বয়স ১৪ বছর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তার বিচার শিশু আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।  

মামলাটিতে ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর ওই তিন নারী এবং ওই বছর ২২ সেপ্টেম্বর রাসেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আজিমপুরে বিজিবি ২ নম্বর গেটের সামনে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। প্রথমে ভেতর থেকে সামান্য দরজদা খুলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গ্রেনেড নিক্ষেপ ও কয়েক রাউন্ড গুলি করে জঙ্গিরা। দরজায় অবস্থানরত পুলিশের চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছোড়ে এবং এলোপাথারিভাবে ছুরিকাঘাত শুরু করে তারা। পুলিশ বাধা দিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে। জঙ্গিদের বোমা ও ছুরিকাঘাত ও মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার সময় এক মহিলা জঙ্গি ছুরিকাঘাত করেন এবং তিনি পালানোর সময় শর্টগান দিয়ে গুলি করা হয়। শর্টগানের গুলিতে মহিলা জঙ্গি আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর সময় অপর জঙ্গিরা তাদের বাসার দরজা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলে তাহরিম কাদেরী ওরফে রাসেল (১৪) পুলিশের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে। বাসায় ঢুকে প্রথম কক্ষে অজ্ঞাত পুরুষকে (তানভীর কাদেরী) গভীরভাবে ছুরিকাঘাতে মৃত অবস্থায় এবং দুই জঙ্গি নারীকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে সোয়াট টিম অপর একটি দরজা খুলে জুনায়রা ওরফে পিংকি (৮) ও সাবিহা জাহান (১) নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩মে/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :