দ্রুত বিএসএমএমইউতে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা: উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ২১:৩৯ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৯, ২১:০৩

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার (ডেন্টাল সার্জারি) পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যত দ্রুত সম্ভব মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বিএসএমএমইউয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক বডি সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় সিন্ডিকেটের সভা শেষে বিএসএমএমউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জনান।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংসদ সদস্য আ ফ ম  রুহুল হক, সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) স্মৃতি রানী ঘরামী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেলায়েত হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (বিএফইউজে)-এর সভাপতি মোল্লা জালাল, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক কাজী শহীদুল আলম, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের  (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, মেডিসিন অনুষদের ডিন জিলন মিয়া সরকার, ডেন্টাল অনুষদের ডিন গাজী শামীম হাসান, নার্সিং অনুষদের ডিন মনিরুজ্জামান খান, কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, নিউরোসার্জারি বিভাগের মোহাম্মদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল আলম, বিএসএমএমইউর সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া শারমিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে বিএসএমএমইউর উপাচার্য নিম্নরূপ বক্তব্য তুলে ধরেন। গত ১৮ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএসএমএমইউর মেডিকেল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ও পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়ে কিছু সংখ্যক প্রার্থী যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কিছু অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিম্নে তুলে ধরা হল:

১। মেডিকেল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই কোনো একটি বিশেষ কক্ষে প্রশ্নপত্র খোলার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রশ্নপত্র মডারেশন, মুদ্রণ এবং প্যাকিং ও সিল করার জন্য গঠিত কমিটি অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সাথে তাদের কার্যক্রম সুসম্পন্ন করেছেন। ওই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না এবং তাদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন পূর্বে কোনো বিশেষ কক্ষে প্রশ্নপত্রের সিল্ড প্যাকেট খোলার প্রয়োজন পড়ে না এবং খোলা হয়ও নাই। এই অভিযোগটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

২। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ এর ঊর্ধ্বে অনেক প্রার্থীর নাম বৈধ তালিকায় রয়েছে এ কথা সার্বিকভাবে সত্য নয়। এ ধরনের দুই জন প্রার্থীর (যাদের বয়স ৩২ এর ঊর্ধ্বে) আবেদন ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একজনের আবেদন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় ধরা পড়ায় তার আবেদন লিখিত পরীক্ষার পূর্বেই বাতিল করা হয়েছে। তবে ডা. বিদ্যুৎ কুমার সূত্রধর নামে অন্য আরেকজন প্রার্থী তার বয়সের প্রকৃত তথ্য গোপন করে আবেদন করেছে এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আবেদনপত্রে তার জন্মতারিখ ২১/০৬/১৯৮৬ উল্লেখ করেছে; যা সঠিক ছিলা না। তার এ ধরনের ইচ্ছাকৃত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।     

৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তার আত্মীয়-স্বজন নিয়মনীতি অনুসরণ করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রশ্নপত্র মডারেশন, মুদ্রণ এবং প্যাকিং ও সীল করার জন্য গঠিত কমিটিতে ভাইস-চ্যান্সেলর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের পিএস-২ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

৪। ডেন্টালের পরীক্ষার্থীগণের মধ্যে প্রশ্ন বিতরণের সময় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং পরীক্ষার হলেই তাৎক্ষণিকভাবে ডেন্টালের প্রশ্নপত্র যথাযথভাবে সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই এ নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ নাই।

৫। ফলাফল প্রকাশের আগেই পরীক্ষার রোল নম্বরসহ যে তালিকা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে,  সেটা ভিত্তিহীন। কারণ এ ধরণের কোনো প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

৬। পরীক্ষা কেন্দ্রে বা হলে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক হাত ঘড়ি বা অন্য কোনো ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশের বিধান নাই (যাহা প্রতিটি প্রবেশপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে)। তাই এ ধরণের ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষার উত্তর সরবরাহ করার কোনো সুযোগ নাই। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বা এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরীক্ষা বাতিল হবে। 

বিএসএমএমইউ জানায়, গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার দিন থেকে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ ১২ মে পর্যন্ত এই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলাফল প্রকাশের পর কিছু অকৃতকার্য প্রার্থী এই পরীক্ষা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে। এমতাবস্থায় বিএসএমএমইউ মনে করে, মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার (ডেন্টাল সার্জারি) নিয়োগ পরীক্ষা স্বনামধন্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দকে নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাই মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু সংখ্যক অকৃতকার্য প্রার্থী পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের যে দাবি করেছে, তা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক বিধায় ফলাফল বাতিল বা পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের কোনো সুযোগ নাই। 

ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :