প্রিয়া আসলে কী বলতে চেয়েছেন, শোনা হবে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৯, ১৬:৩৯
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেডিসেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা আসলে কী বলতে চেয়েছেন, সেটা তার কাছ থেকে শুনে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এ বিষয়ে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

ট্রাম্পকে প্রিয়া বলেছিলেন বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান গায়েব হয়ে গেছে। এখন যে এক কোটি ৮০ লাখ দেশে আছে, তারা নির্যাতনের শিকার। তার নিজের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, জমি কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বিচার পাননি। সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়তে চায় না। এ বিষয়ে ট্রাম্প যেন হস্তক্ষেপ করেন।

কারা জমি ও ঘরবাড়ি দখল করেছে তা ট্রাম্প জানতে চাইলে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো এসব দখল করেছে।’

প্রিয়ার এই বক্তব্যের পর ওবায়দুল কাদের একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, দেশে ফিরলে এই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই ‘ছোট ঘটনা’য় রাষ্ট্রদ্রোহ হয় না।

এরই মধ্যে প্রিয়ার বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলার আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। যদিও দেশের বিভিন্ন আদালতেই একাধিক মামলার আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে প্রিয়া সাহার বক্তব্য শোনা হবে যে, আসলে তিনি কী বলতে চেয়েছেন।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনার অবস্থান জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বার্তা দিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তড়িঘড়ি করে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার নেই। আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি কী বলতে চেয়েছেন সেটা জানতে হবে। তার দেশে ফিরতেও কোন বাধা নেই।’

ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার বিষয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা যায় না। তাছাড়া এ ব্যাপারে যিনি অভিযোগ করেছেন, সেই অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্যটা আমাদের জানা দরকার। তার আগে কোন প্রকার পদক্ষেপ নিতে আমরা যাব না।’

প্রিয়া এই বক্তব্য কেন দিয়েছেন, সেটা খতিয়ে দেখার কথাও জানান কাদের। বলেন, ‘প্রিয়া সাহার এরকম অভিযোগ করার কারণ নিয়ে তদন্ত করা দরকার। আমি মনে করি দেশে ফেরার পর তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের 'ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি' শীর্ষক একটি আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের অংশ হিসাবে গত ১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সবার সাক্ষাৎ হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৭ জন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরা সবাই ওয়াশিংটন গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি ইভেন্টে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন- যার নাম ছিল 'সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু অ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম'।

ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এতে পাঁচ জন বাংলাদেশি এবং দুইজন রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর একটি প্রতিনিধিদল পাঠায়- যার একজন ছিলেন প্রিয়া সাহা।

ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/এনআই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :