২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

ছেলে হত্যার বিচার চান মাহবুবের মা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২২

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড বোমা ছোড়া হয়। নিজের জীবনকে বাজি রেখে গ্রেনেড প্রতিহত করে শেখ হাসিনার জীবন বাাঁচিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের হারুন-অর-রশিদের মাহাবুবুর রহমান।

গ্রামের পিতা-মাতার চরম আনুগত্যময় সন্তান, দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা মাহবুব ছিলেন ছেলেবেলা থেকেই সাহসী ও পরোপকারী। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পান এবং অবসরে গিয়ে নিযুক্ত হন শেখ হাসিনার ৪০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে গর্বিত একজন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাহবুব তার দায়িত্ব পালন করে গেছেন একনিষ্ঠভাবে।

মাহাবুবের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘ফটো তুলে কি হবে! এই মাস (আগস্ট) আসলিই সামবাদিকরা (সাংবাদিক) আইসে আরো জ্বালা বাড়ায় দেয়। কেউ কি আমরা ছেলেকে আইনে দিতি পারবি। যা যাওয়ার তো আমারই গ্যাছে আপনারা কি ফিরি দিতি পারবেন। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’

সরকারের ১১ বছর চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমার ছেলে হত্যার বিচার হলো না।

মাহাবুবের বাবা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই, বিচার হলে আমি মরেও শাান্তি পেতাম। তিনি মাহাবুবের নামে একটি রাস্তা ও কবরস্থানের চারিপাশে প্রাচীরের দাবি করেন।’

মাহবুবের স্ত্রী শামীমা আক্তার আছমা ও তার দুই ছেলে আশিক ও রবিন ঢাকাতে থাকেন। প্রথম প্রথম মাহবুবের মা-বাবার সাথে যোগাযোগ রাখলেও এখন আর যোগাযোগ রাখেন না। আশিক বুয়েট থেকে পাস করেছেন ও রবিন ঢাকাতে মেডিকেলে পড়াশোনা করেন।

মাহবুবের পরিবারের হালচিত্রের কথা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত মাহাবুব আমাদের গর্ব। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম থেকে মাহবুবের বাবা-মা, স্ত্রীসহ পরিবারকে দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তার ছোট ভাইকে উপজেলা পরিষদে চাকরি দেয়া হয়েছে, বোনের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চাকরি হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আমরা দলের পক্ষ থেকে তার পরিবার সাহায্য করে যাচ্ছি এ ধারা চলমান থাকবে। তার নামে একটি রাস্তা করার প্রক্রিয়া চলছে। ২১ আগস্ট উপলক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে উপজেলার বাসস্ট্যান্ডে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে নবযোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাঈদ মোমেন মজুমজার বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিজের জীবন দিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা  করে যে অবদান রেখেছেন, আমরা তা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। আমি এখানে নতুন যোগদার করেছি জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে ও উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে পরামর্শ করে তার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতা করার করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাহাবুবের পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :