ভালুকায় পাম চাষে আনোয়ারের সাফল্য

আনোয়ার হোসেন, ভালুকা (ময়মনসিংহ)
 | প্রকাশিত : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৪৪

ময়মনসিংহের ভালুকায় অর্থকরী ফসল পাম চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন ফকির। উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাব গ্রামের এই বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। তার এ সফলতা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষিকে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত কৃষি থেকে কৃষকদের নির্ভরতা কমিয়ে আনাতে পাম চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভালুকার প্রত্যন্ত অঞ্চল রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাব গ্রামে ১০ বছর আগে আনোয়ার ফকির ১০ একর জমিতে ১ হাজার পাম গাছের চারা রোপন করেন। কোটি টাকা ব্যয়ে গড়া বর্তমানে এই বাগানের সবকটি গাছের কাঁদিতে এখন থোকায় থোকায় পাকা ফল। তিন বছর ধরে এ বাগানে ফলনকৃত পাম ফল থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বিশুদ্ধ পাম তেল। বর্তমানে সবকটি গাছে ফল ধরাতে এবং নিজস্ব পামওয়েল প্রসেসিং প্লান্ট না থাকায় এ ফলন কাজে লাগাতে পারছেন না তিনি।

আনোয়ার বলেন, ‘আমার বাগানের পাম থেকে উৎপাদিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা তেলের চেয়ে বহুগুণে উন্নত ও সুস্বাদু। এবছর বাগানে প্রায় ৪০০ টনেরও অধিক ফল ধরেছে। এ ফল পরিশোধনের মাধ্যমে দ্বিগুণ পামওয়েল পাওয়া যেত। কিন্তু আমার প্রসেসিং প্লান্ট না থাকায় এ ফলন আমি কাজে লাগাতে পারছি না। মাঝেমাঝে স্বল্প মূল্যে পাম ফল কিনে নিতে আসেন দেশের বিভিন্ন ওয়েল ফার্ম প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওইসব প্রতিষ্ঠানের পামফল ক্রয় নিয়মিত না থাকায় ও কম দাম হওয়ায় আমার বাগানের অনেক ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি কোন ব্যাংক ঋণ পাইনি। আমার এ সাফল্যের জন্য কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও আমাকে কোনো প্রকার সম্মাননা বা স্বীকৃতি দেয়নি।’ 

বাংলাদেশ পামওয়েল উন্নয়ন প্রকল্প ও পামওয়েল রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লি. সূত্রে জানা যায়, পামগাছ একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। টানা ৬০-৭০ বছর ফল দেয়। ঝড় জলোচ্ছ্বাসে গাছের ক্ষতি হয় না। অন্যান্য গাছ থেকে ১০ গুণ বেশি অক্সিজেন দেয় পাম গাছ। একটি পরিবারের সারাবছরের তেলের চাহিদা পূরণের জন্য দুটি গাছই যথেষ্ট। ২০ ফুট দূরত্বে ২ ফুট বাই ২ ফুট গর্ত করে মাটির সাথে ৫/৭ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম এমওপি মিশিয়ে চারা রোপন করতে হয়। পাকা ফল থেকে হাতে ও মেশিনে তেল সংগ্রহ করা যায়। ফল পানিতে সিদ্ধ করে চাপ দিলেই তেল বের হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশা জানান, ‘আনোয়ার ফকির আমার পরিষদের ইউপি সদস্য। তার এমন সফলতায় আমি সত্যিই গর্বিত। আমার দাবি, সরকার তার এ সফলতাটি আমলে নিয়ে তাকে সহায়তা করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ বৃহৎ বাগানটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত হবে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানান, এই অঞ্চলের মাটি পাম চাষবান্ধব। চাষের পরিসর বাড়ানো হলে ও সেই পাম থেকে তেল উৎপাদন করলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। ব্যাপকভাবে পাম চাষ করা গেলে বিদেশ থেকে পাম তেল আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।

ঢাকাটাইমস/২২আগস্ট/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :