স্বতন্ত্র নির্বাচিত হয়েছি, স্বতন্ত্রই থাকব: রেজাউল করিম বাবলু

এনাম আহমেদ
 | প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন রেজাউল করিম বাবলু। এর আগে তিনি এলাকায় দুই যুগেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন। সাংবাদিকতা পেশা থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তার দিনকাল কেমন যাচ্ছে এবং পরিকল্পনা কী, সেসব বিষয় নিয়ে ঢাকা টাইমস-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বগুড়া প্রতিনিধি এনাম আহমেদ।

একসময় সাংবাদিকতা করতেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আপনি প্রথম কখন এবং কোথা থেকে নির্বাচনের অংশ নিয়েছিলেন? 
২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আমি প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম।

রাজনীতিতে আসার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য কী ছিল? 
সাংবাদিকতা করতাম মানুষের জন্য। একজন নাগরিক ইচ্ছে করলে ভোট দিতে পারে আবার ভোটে দাঁড়াতেও পারে। নির্বাচনে জয়ী হলে সরাসরি জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারব। এরকম একটা তাড়না থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা জাগে। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আপনাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। বিএনপি বলছে, এই ভোটার তাদের। আপনি কী মনে করেন? 
দেখুন আমি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছি। সব সময় অন্যায় ও দুর্নীতি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেছি। বিএনপি সমর্থন দিয়েছে, এটা ঠিক। তবে আমি মনে করি আমার আসনের ভোটাররা আমাকে যোগ্য মনে করে এবং ভালোবেসেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। 

সম্প্রতি আপনি একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। গণমাধ্যমে সেই গাড়ি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা কী?
প্রথমত বলব, এটা বিলাসবহুল গাড়ি নয়। এটা কমদামি গাড়ি। এমপি হিসেবে গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে গাড়িটি নিয়েছি। প্রতি মাসে আমার সম্মানী ভাতা থেকে ধীরে ধীরে টাকাগুলো পরিশোধ করছি। 

আপনার নাম নিয়ে একটা ধূ¤্রজাল আছে। আপনার সঠিক নাম কোনটি, শওকত হোসেন গুলবাগী নাকি রেজাউল করিম বাবলু? 
আমার নাম রেজাউল করিম বাবলু। আমার সব একাডেমিক সার্টিফিকেট এবং ভোটার আইডি কার্ডে এই নামটিই আছে। এখানে ধূ¤্রজালের কিছু নেই।

এমপি হওয়ার পর প্রথমে শোনা গেল আপনি আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন, আবার কয়েক দিন আগে শোনা গেল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। আসলে আপনি কোন দলে যোগ দিতে চাচ্ছেন? 
প্রথমে আওয়ামী লীগে যোগদান করছি এবং পরে বিএনপিতে যোগদান করেছি- এরকম কথা চাউর হয়েছিল। সবশেষ জাতীয় পার্টিতে যোগদান করব এমন সংবাদও পত্রপত্রিকায় এসেছে। এগুলো গুজব। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেই যখন এরকম গুজব ওঠে তখন আমি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি, স্বতন্ত্রই থাকব। এখনো আমি এ কথাটাই বলব। এ মুহূর্তে কোনো দলে ভেড়ার পরিকল্পনা নেই।  যদি ভবিষ্যতে কোনো দলে যাই অবশ্যই আমার এলাকার যেসব ভোটার আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেব। 

আপনার এলাকার উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা নিয়েছেন? 
এলাকার উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নন-এমপিও সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এছাড়া আমার নির্বাচনী আসন শাজাহানপুর-গাবতলী এই দুটো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল শিক্ষাপদ্ধতির আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। এই দুই উপজেলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কীভাবে আত্মনির্ভরশীল করা যায়, সে বিষয় নিয়েও পরিকল্পনা আছে। 

এখন পর্যন্ত কী কী করেছেন? 
দুই উপজেলায় ২২টি রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। যেগুলোর কাজ শিগগিরই শুরু হবে। আরো ৫টি ব্রিজ নির্মাণ এবং মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। 

শুনেছি টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক? 
এখানে রাজনৈতিক কোনো ভেদাভেদ করিনি। যারা দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য, যাদের দিয়ে কাজ হবে, তাদেরই দেওয়া হয়েছে। 

জাতীয় রাজনীতিতে আপনি কী ধরনের ভূমিকা রাখতে চান? সে অনুযায়ী আপনি কোন পথে এগোচ্ছেন?
আমার রাজনীতি জনগণকে নিয়েই। এলাকার উন্নয়ন কীভাবে হবে, জনগণের উন্নয়ন কীভাবে হবে- আমি সেই চিন্তা নিয়েই রাজনীতি করতে চাই। জনগণ এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়েই সব সময় চিন্তা করি।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ঢাকা টাইমস এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :