খোঁজ নেই মামলাকারী ছাত্রদল নেতা আমানের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৪

হঠাৎ করেই আলোচনায় আসা সাবেক ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমানের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির এই নেতা কাউন্সিলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন আদালতে। আর তার আর্জিতেই আটকে যায় ছাত্রদলের কাউন্সিল। অনিশ্চয়তায় পড়েছে ভোটের মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব বের হওয়ার সুযোগও।

যাকে নিয়ে এতো আলোচনা তাকে সেইভাবে চিনতেন না ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীও। একেক সময় একেক নেতার গ্রুপের রাজনীতি করতেন আমান। তবে আদালতে মামলার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন।  নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে তার ফেসবুকও।

আমানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হলেও বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা এর পেছনে কারও ইন্ধন আছে বলে সন্দেহ করছেন। কার ইন্ধনে এই কাজ করেছে তা উদঘাটনের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়েও তেমন কোনো কূলকিনারায় পৌঁছাতে পারেননি তারা।

দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, আমানের মামলার পেছনে ছাত্রদলের বিদ্রোহী গ্রুপের ইন্ধন রয়েছে। যে বসয়সীমা ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা, সেই ইস্যুটিই মামলার আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আদালতের নির্দেশনামত জবাব দেয়ার জন্য আইনজীবীরা কাজ করছেন। দুই একদিনের মধ্যে জবাব দেয়া হবে।

দলের একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমানউল্লাহ আমান তার আরজিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, রাতের বেলায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্তি এবং বয়সসীমা বেঁধে দেওয়াও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পরও তিনি প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এজন্য তিনি কাউন্সিলের ওপর স্থগিতাদেশ চান। তবে তার প্রার্থী হওয়ার কোনো তথ্য কেন্দ্রে নেই বলে জানা গেছে।

কে এই আমান?

বৃহস্পতিবার নির্বাচনের একদিন আগে আমানউল্লাহ আমানের এক মামলায় ছাত্রদলের কাউন্সিলের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন ঢাকার চতুর্থ সহকারী জজ আদালত। এই আদেশের পর থেকে ছাত্রদলসহ বিএনপি নেতাদের মধ্যে আমানই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এরই মধ্যে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা বেশি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন আমানউল্লাহ আমান। তার বাড়ি কুমিল্লায়। ২০০৯ সালের টুকু-আলীম কমিটি ঘোষণার পর নরসিংদী অঞ্চলের এক নেতা বিদ্রোহ করলে আমান তার গ্রুপে থেকে বিদ্রোহে অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ওই নেতার গ্রুপে ছিলেন তিনি। পরে ২০১২ সালের জুয়েল-হাবিব কমিটিতে তাকে পদ না দেয়ায় বরিশাল অঞ্চলের এক নেতার গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপেও বেশিদিন ছিলেন না। আবারও নংরসিংদী অঞ্চলের সেই নেতার গ্রুপে সক্রিয় হন আমান। পরে ২০১৪ সালের রাজিব-আকরাম কমিটিতে তাকেসহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠও তিনি।

আমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আমান ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন বলে পরিচয় দেন। ছাত্রদলের কোনো গ্রুপেই তিনি স্থির থাকেননি।

নেতাকর্মীদের ধারণা, আমান মামলা করলেও এই মামলার পেছনে ছাত্রদলের সাবেক কয়েক নেতা ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো নেতারও ইন্ধন থাকতে পারে।

কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আমান উল্লাহ ছাত্রদলেরই ছেলে। সে কারও প্ররোচণায় এ কাজ করেছে, নাকি স্বপ্রণোদিত হয়ে করেছে— বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে এটা কারও কল্পনাতেও ছিল না।’

এদিকে শুরু থেকে এর পেছনে সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, ছাত্রদলের নেতাদের মামলার কারণে তাদের কাউন্সিল বন্ধ হলো। তারাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলো, মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করে দেয়া হলো। নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা করে সম্মেলন পণ্ড করেছে। এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকারের দোষ কী?’

(ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :