আ.লীগের ২১তম কাউন্সিল ২০-২১ ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৪০ | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৭

আগামী ডিসেম্বর মাসে দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে। এজন্য দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হয় তিন বছর পর পর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটির। এসব সম্মেলনে দলের শীর্ষপর্যায় থেকে কার্যনির্বাহী কমিটি পর্যন্ত নির্বাচিত হয়েছেন শত শত নেতা। তবে এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আটবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর সর্বশেষ সম্মেলনে টানা অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন ওবায়দুল কাদের।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আজ গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা দলের জাতীয় কাউন্সিল করার কথা জানিয়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিটি কর্মীকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। এ জন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে সব সময়ই সংগঠনটি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এক দশকে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। এখন বাংলাদেশ নিয়ে সারা বিশ্বের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও কেউ থামাতে পারবে না, নষ্ট করতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো ’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সকল অর্জনের অগ্রবর্তী দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। জাতির পিতার নেতৃত্বে এই সংগঠনই বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ দেশটাকে তিনি সুন্দরভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, দেশের তৃণমূল পর্যন্ত মানুষের যাতে আত্ম সামাজিক উন্নতি হয়, বাংলাদেশ যাতে একটি দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হয় সেই জন্য তিনি পদক্ষেপও নিয়েছিলেন এবং বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছিলেন। একদিকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তোলা অপরদিকে দেশের উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের কালোরাতে দেশের মানুষের সকল আশা-আকাঙ্খা হারিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ২১ বছর পরে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন মানুষের মনে আশার আলো জ্বলে উঠে। আমরা ঠিকই মানুষের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, দায়িত্ব নিয়ে আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করি। দেশের মানুষের ভাগ্যে বারবার আঘাত আসে, ২০০১ সালে আবারও আঘাত আসলো। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের মানুষের জীবন যেন একটা অন্ধকার মেঘে ঢাকা ছিলো। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরে এই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। এই এক দশকে বাংলাদেশ যে অর্ভূত পূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

‘আমরা একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছি আরেকদিকে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক চারের মধ্যে আমরা সীমিত রাখতে সক্ষম হয়েছি। যার সুফলটা এদেশের মানুষ পচ্ছে। আমাদের প্রতিটি অর্থনৈতিক নীতিমালা লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের যেন ভাগ্য পরিবর্তন হয়, তারা যেন দারিদ্র থেকে মুক্তি পায়। আমরা সেটা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই জন্য আমরা দীর্ঘ পরিকল্পনাও নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে একটা স্পষ্ট যে দল সংগ্রাম করে, ত্যাগ শিকার করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে, যাদের আন্দোলনের ফসল হিসাবে স্বাধীনতা অর্জন করা যায়। সেই দল ক্ষমতায় থাকলে কিন্তু দেশের উন্নতি হয়। কিন্তু অবৈধভাবে সংবিধানলঙ্গন করে ক্ষমতা জবর দখল করে যারা ক্ষমতায় আসে তারা দেশের উন্নয়ন করে না। অবৈধকৃত ক্ষমতা নিশ্চিত করা আর নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে ব্যস্ত হন। এর প্রমাণ বাংলাদেশের মানুষ বারবার দেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে যে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটা ধরে রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ারর উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি কত সময় লাগবে না তার আগেই আমরা তা করতে পারবো। ২১০০ সালের জন্য আমরা ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছি এই বদ্বীপ অঞ্চলের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন ভালো ভাবে বাঁচতে পারে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতি জনগণের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব যা আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মীকে মনে রাখতে হবে। সেইভাবে সেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যরা উড়ে এসে জুড়ে বসে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট্য বিলিয়ে যে সমস্ত দল গঠন করেছে তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। আর তারা সেই দায়িত্বও নেই না। তারা আসে নিজেদের ভাগ্য গড়তে। যখন ক্ষমতায় ছিল তারা তাই করে গেছে।

সভায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক, সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/এমআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :