শাবি ভিসির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ

শাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১১

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সংবলিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। বেনামে প্রকাশিত ওই শ্বেতপত্রে ভিসির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারসহ মোট ৫৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত শনিবার পুস্তিকা আকারে শ্বেতপত্রটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের হাতে কুরিয়ার মারফত পৌঁছায়। অভিযোগকারীরা নিজেদের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ’ উল্লেখ করলেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়; শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শাবির গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব, আত্মীয়-স্বজন ও ভিসির এলাকা কুমিল্লার প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া, ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অক্ষমতা, শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে বাধা, বিমা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস আগ থেকেই শিক্ষকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া, নারীপ্রীতি, জামায়াত তোষণ নীতি, জিইবি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতীকের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট ভায়োলেশন, ছাত্রলীগের একটি অংশকে বিতাড়নের জন্যও ভিসিকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে রবিবার দুপুর ২টায় প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ভিসি বলেন, ‘যারা বেনামে শ্বেতপত্র দেয় তাদের নৈতিক ভিত্তি কতটুকু তা এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। আমি যদি কোন অনিয়মই করতাম, তাহলে তারা নিজ পরিচয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারতেন। সব সমালোচনাকারীরা জ্ঞানপাপী, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।’

শাবি গ্র্যাজুয়েটদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষয়টি অস্বীকার করে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একক ব্যক্তির ইচ্ছায় কোন নিয়োগ হওয়া সম্ভবও নয়। আর আমি কোন আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেইনি। আপগ্রেডেশনের বিষয়টিও নিয়ম মাফিক হয়। বিমা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোন টাকা নেয়া হয়নি।’

শাবি গ্র্যাজুয়েটদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের বিষয়টি অস্বীকার করে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে আমি একা থাকি না। একক ব্যক্তির ইচ্ছায় কোন নিয়োগ হওয়া সম্ভবও নয়। আর আমি কোন আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেইনি। চাইলে যে কেউ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আপগ্রেডেশনের বিষয়টিও নিয়ম মাফিক ও এক্সপার্টদের মতামত নিয়ে হয়।’

বিমা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস আগ থেকেই শিক্ষকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগে ভিসি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিমা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোন টাকা নেয়া হয়নি। আর টেন্ডারের মাধ্যমেই প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে কাজ দেয়া হয়েছে।’

শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে নিজের ইচ্ছামাফিক ধারা-উপধারা সংযোজন, আন্তর্জাতিক ভিসি সম্মেলনের নামে চল্লিশ লক্ষ টাকার অপচয়, নারীপ্রীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট ভায়োলেশন, ছাত্রলীগের একটি অংশকে বিতাড়নের জন্যও ভিসিকে অভিযুক্ত করা হয়। উল্লেখিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে দুদক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে সার্বিক বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। তারা চায় আমি এ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাই, যাতে ইচ্ছামতো লুটপাট ও দুর্নীতি করতে চায়। আমাকে চাপে ফেলতে তারা এই মিথ্যা অভিযোগগুলো এনেছে, এমন কি আমার পরিবারকেও হয়রানি করছে। আমার ছেলেকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু  আমি নিজের কাছে একশত ভাগ সৎ। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। সততার সাথেই নিজের দায়িত্ব পালন করে যাব।’

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :