গণপূর্তে একচেটিয়া শামীম, যোগসাজশকারীদের কী হলো

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৫
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জি কে শামীম (ফাইল ছবি)

দীর্ঘদিন ধরে গণপূর্তসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদারির কাজ একচেটিয়া ভাগিয়ে নিতেন সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে আটক জি কে শামীম। এর সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তার যোগসাজশের কথা আসছে। তাদের অনেকের নামও গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু সরকারের তরফে তাদের চিহ্নিত করার ঘোষণা কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে এই অধিদপ্তরের চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নির্মাণকাজ একক ও যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে শামীমের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে কনস্ট্রাকশনস। বর্তমান ই-টেন্ডারের যুগে এমনটা কীভাবে সম্ভব তা নিয়ে নানা বক্তব্য আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ডিজিটাল বাংলাদেশে দরপত্র সন্ত্রাস, দরপত্র ছিনতাই ঠেকাতে এবং ভালো ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশ নিতে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রচলন করা হয় ই-টেন্ডার। সেখানেও যে কারসাজি আর যোগসাজশের পথ খোলা জি কে শামীম বড় উদাহরণ। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ‘যতই ডিজিটাল হোক না কেন মানুষ হিসেবে যতক্ষণ না আমরা সৎ হতে পারব, ততক্ষণ কারসাজি চলবে। যারা এই প্রক্রিয়ায় আছেন তাদের সহযোগিতায় শামীমদের মতো লোকজন একচেটিয়াভাবে কাজ পাচ্ছে। এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। জি কে শামীমকে ধরা হলো, কিন্তু যারা তাকে সহযোগিতা করল তাদের কী হবে- সেটাও পরিষ্কার করতে হবে।’

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপে বদিউল আলম বলেন, ‘এমনিতেই দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় বেশি ধরা হয়। বারবার সময় নষ্ট করে ব্যয় কয়েক গুণ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু লোককে এই কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। এটা অন্যায়।’

এসব কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে শামীমদের মতো লোকজন নানা কারসাজি করে বড় বড় কাজ পায়। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আর এই কাজ দেয়ার বিনিময়ে কারও কারও পকেটে টাকা যাচ্ছে। এসব তো স্পষ্ট। ফলে কাজ হয় নি¤œমানের।’

এসব কারণে দরপত্র ব্যবস্থাপনার ভেঙে পড়েছে বলে মনে করেন সুজন সম্পাদক। এ থেকে উত্তরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। গণপূর্তমন্ত্রী সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু তার ওখানে এসব কাজ কীভাবে হয়? তার মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অনেকের নাম আসছে, যাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে এসব কাজ পান শামীমসহ অন্যরা। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে মন্ত্রীকে।’

সচিবালয়ের নতুন ভবন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গাজীপুরে র‌্যাবের কমপ্লেক্স, আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণসহ এককভাবে সরকারের ১৩টি বড় প্রকল্পের ঠিকাদার জি কে শামীম।

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে মাদক ও অস্ত্র মামলায় কারাগারে বন্দি তিনি। তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। ফলে বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এসব কাজ বিকল্প প্রক্রিয়ায় শেষ করার কথা ভাবছেন গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ যদি ঠিকাদার না করেন তাহলে বিধি মোতাবেক চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। তাদের কাজ যতটুকু বাকি আছে তা জরিপ করে কত টাকা তিনি ব্যয় করেছেন, তা নিরূপণ করে বাকি অংশের জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

এ বিষয়ে বদিউল আলম বলেন, প্রায়ই দেখা যায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়, আর বেড়ে যায় ব্যয়। এখানে তেমনটি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/বিইউ/মোআ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :