জবির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যৌন হয়রানি ও সংঘর্ষ

ইসরাফিল হোসাইন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৫ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫১

‘উন্নয়নের জন্য সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৯ তথা ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন। অনুষ্ঠানে এক ছাত্রী যৌনহয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, নাটক পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রকাশনা উৎসব।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রং বেরংয়ের পোশাক পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। ছাত্রীদের বাহারী রংয়ের শাড়ি ও ছাত্রদের পাঞ্জাবিতে দেখা গেছে। সাবেক শিক্ষার্থীরাও এসেছিলেন। একে অন্যের গাঁলে নানা রং মাখিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। এ আনন্দের মধ্যেই আবার কিছু দুর্ঘটনাও ঘটে। দুপুর দেরটার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে একই বিভাগের ১১তম ব্যাচের মো. নূর রেজওয়ান কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রী তাতে রাজী না হওয়ায় রেজওয়ান তাকে গালিগালাজ ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা রেজওয়ানকে থানায় সোপর্দ করে দেন।

এদিকে বিকাল চারটার দিকে রফিক ভবনের সামনে ছেলেমেয়েরা গানের তালেতালে নাচার সময় গাঁয়ে ধাক্কা লাগার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী একুশে টিভির অনলাইন সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাগর হোসেনকে এলোপাতারি মারধর শুরু করেন। আহত সাগরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোট ছোট কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে। যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টারিয়াল বডির সদস্যগণ তাৎক্ষণিক মীমাংশা করে দেন।

যেভাবে উদযাপন হলো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী:

সকাল ৯.১০টায় শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রা:

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যান্ডদলে সুসজ্জিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার চত্বর হতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেট দিয়ে প্রবেশ করে শেষ হয়।

বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৯ এর উদ্বোধন:

র‌্যালি শেষে সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে ২য় বর্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও অন্যান্য শিল্পকর্ম স্থান পায়। সকাল নয়টা হতে বিকাল তিনটা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ২৮ অক্টোবর প্রদর্শনীটির সমাপ্ত হবে।

আলোচনা সভা:

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ প্রতিষ্ঠিত। একাডেমিকভাবে সেশনজট মুক্ত, কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও মেধাবী শিক্ষকবৃন্দের প্রয়াসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের ভর্তির জন্য মূল আকর্ষণ। এছাড়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন র‌্যাগিং ও অন্য রকম অন্যায় আচরণের ঘটনা সংঘটিত হয় না। এই সকল ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সজাগ রয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ই বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে ১০৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১০১ জন অধ্যাপক পি.এইচ.ডি ডিগ্রিধারী বাকি ৩জনের ডিগ্রি প্রক্রিয়াধীন। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২০ সালের জুন মাসের পর কোন শিক্ষক পি.এইচ.ডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক পদে প্রমোশন পাবে না।

তিনি আরো বলেন, “অবকাঠামোগত সমস্যা থাকার পরেও আমরা অতি স্বল্প সময়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহনের স্বল্পতা দূরীকরণে সম্প্রতি একসাথে ১৫টি বাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কেনা হয়েছে। শিগগির নিজস্ব মালিকানায় দোতলা বাস কেনা হবে।

আলোচনা সভায় রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান-এর সঞ্চালনায় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.  মো. শওকত জাহাঙ্গীর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদা আক্তার খানম, আইন অনুষদের ডিন খ্রীস্টিন রিচার্ডসন, লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হুমায়ন কবির, জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদেক, কর্মচারী সমিতির সভাপতি ইসরাফিল, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।

নাটক পরিবেশনা:

সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের তাদারকিতে শুন্যন নাট্যদলের উদ্যোগে ‘লাল জমিন’ নাটক পরিবেশিত হয়। ‘লাল জমিন’ নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের। আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করাই ‘লাল জমিন’ নাটকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

প্রকাশনী প্রদর্শনী:

ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী প্রকাশনা প্রদশর্নীর আয়োজিত হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:

দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে সামাজিক বিজ্ঞান ভবন চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এরমধ্যে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটস কর্তৃক উপাচার্যকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। বাঁধন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালিত হয়। উল্লেখ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৯ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/আইএইচ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :