ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন

তিন বছরের প্রকল্প গড়াল ১০ বছরে

জহির রায়হান
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:৩৭

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি তিন বছরের প্রকল্প চারবার সময় বাড়িয়ে নয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পঞ্চমবারে আরও দেড় বছর সময় বাড়ানো হয়েছে। তাতে ১০ বছরে গড়াবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ।

বারবার সময় বাড়ানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করে আজকের একনেক সভায়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধেশনা দিয়েছেন, আর যেন সময় বাড়ানো না হয়। এ সভাতেই প্রকল্পটির সময় বাড়ানো হয়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পাশে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দুটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলাবিশিষ্ট ভবন উঠেছে মাত্র। অন্য আনুষঙ্গিক কাজ এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়, লোকবল নিয়োগ ও পদায়নসহ অন্যান্য কাজ বাকি রয়েছে। এখন পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।  

ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও শিক্ষা এবং প্যাথলজিক্যাল সেবার মতো টেকনিক্যাল বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে।

২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্র ল্পে প্রথম ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ বেড়ে হয়েছে ১৯৪ কোটি টাকা। চার দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের জুনে। পঞ্চম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে সেটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নেওয়া হয়েছে।

এ প্রকল্প শেষ করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের শুরু থেকে গত ফেব্রুুয়ারি পর্যন্ত মোট ১০১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,  ‘এ বছর জুনে কাজ প্রকল্পটির কাজ শেষ করা কথা ছিল। মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছর জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়। আমরা দেখলাম এ সময়েও কাজ শেষ করতে পারবে না। এর পর সবকিছু বিবেচনা করে এর মেয়াদ ২০২০ এর ডিসেম্বর বাড়ানো হয়।’

মন্ত্রী বলেন, তারা পঞ্চমবারের মতো সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করলে এটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। আমার মনে হয়েছে এটা একনেকে দেখা দরকার, জানা দরকার। সেই সুবাদে একনেকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছে আর যেন সময় না বাড়ানো হয়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটা বুঝে নিয়েছেন উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী আশা করেন এবার নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পটি শেষ হবে।

প্রকল্পটির উদ্যোগী সংস্থা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, আর বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রকল্পের সময় বাড়ানো সম্পর্কে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য  (সচিব) শামীমা নার্গিস সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে  বলেন, ‘এটাতে অনেকগুলো পদ সৃজনের ব্যাপার আছে। কিছু টেকনিকাল বা সায়েন্টিফিকেট যন্ত্রপাতি কেনার কথা ছিল। আর  জমি নিয়ে একটা মামলা ছিল। জমির মামলা যতক্ষণ নিষ্পত্তি হয়নি ততক্ষণ এ এলাকায় কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না।’

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন প্রতিষ্ঠা করা; কমিউনিটি ও হাসপাতাল পর্যায়ে ল্যাবরেটরি মেডিসিনের সব জনশক্তি প্রদানের সুযোগ তৈরি করা; গুণগত ল্যবরেটরি সার্ভিস নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সারা দেশের ল্যাবরেটরিগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা; প্যাথলজি সার্ভিস এবং এর একটি  রেফারেন্স সেন্টার তৈরি করা এবং প্যাথলজি সেবা প্রদান করা; ল্যাবরেটরিগুলোর স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা; ল্যবরেটরি মেডিসিনের বিভিন্ন শাখার স্নাতকোক্তর পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা কোর্স পরিচালনা করা; গবেষণাকার্য পরিচালনা করা এবং ল্যাবরেটরি সেবা প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব আয় করা।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম দুটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেন্স সেন্টার ভবন নির্মাণ, ইনস্টিটিউটের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় সংগ্রহ।

প্রকল্পের পাঁচ দফা মেয়াদ বাড়ানোর কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যন্ত্রপাতি ক্রয় শেষ না হওয়া; যে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তা বুঝে নেওয়ার মতো জনবল প্রকল্পের আওতায় না থাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন উত্তর জনবলের পদে নিয়োগ ও পদায়ন না হওয়া।

প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কয়েছে যা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ; জনবলের নিয়োগ ও পদায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় প্রশিক্ষণ প্রদান সম্ভব না হওয়া;  কিছু যন্ত্রপাতির জন্য দরপত্র আহবান করা হলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করতে না পারা; কয়েকটি প্যাকেজের যন্ত্রপাতি দেশে আসার পর তা সংস্থাপনে আরও সময় প্রয়োজন হবে যা ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

প্রকল্পটির জুলাই ২০১০ এ শুরু হয় শেষ করার কথা ছিল জুন ২০১৩ সাল।  ২০১৪ সালে প্রথমবার ব্যয় বৃদ্ধি সহ সময় বাড়িয়ে নেয়া হয়। এরপর প্রতিবারই শুধু সময় বাড়ানো হয়, ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার, ২০১৭ সালে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো বাড়িয়ে নেওয়া হয়।  চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এর সময় বাড়ানো হয়েছে আগামী বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত।

পরিকল্পনামন্ত্রী এক প্রশ্নের জাবাবে বলেন, অপচয় হলো দুর্নীতির চেয়েও ভয়ংকর। সবচেয়ে বড় অপচয় সময়ের অপচয়। সময়ের অপচয় আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যয়। এটা যদি কেউ নিজের ইচ্ছেয় করে থাকে বা ডিলামি করে থাকে এটা দুর্র্নীতির চেয়েও ভয়ংকর। এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা কাজ করছি। আজ এটা আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।

 (ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :