ব্রেক্সিটেও রাশিয়ার ছায়া, বিপাকে জনসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২১

ব্রেক্সিট গণভোটের উপর রাশিয়ার প্রভাব সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না করায় চাপের মুখে পড়ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী৷ ভোটারদের কাছে ‘বিস্ফোরক’ তথ্য গোপন রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ উঠছে৷

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি৷ একই বছর ব্রিটেনে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোটেও মস্কোর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে৷ লন্ডনে রাশিয়ার দূতাবাস কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিদের ঠিক কতটা মদত দিয়েছে, সে বিষয়ে এক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে৷ মার্চ মাসেই সংসদের ইনটেলিজেন্স কমিটি সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে৷ অক্টোবর মাসের শুরুতেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ও মন্ত্রিসভার দপ্তর সেটি প্রকাশ করার ছাড়পত্র দিলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি৷ অথচ বোঝাপোড়া অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে জনসনের সাড়া দেবার কথা ছিল৷

এদিকে ব্রিটেন সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। আগামী ১২ই ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন৷ ফলে সংসদের পক্ষে আর সেই রিপোর্ট প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না৷ বিরোধীদের অভিযোগ, রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ব্রেক্সিটপন্থিদের ভূমিকা সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো বিষয় থাকলেও ভোটাররা কিছু জানতে পারবেন না৷ তাদের মতে, সে কারণে জনসন ইচ্ছা করেই রিপোর্টটি আপাতত ধামাচাপা দিতে চান৷ বিরোধীরা তাই শেষ প্রহরে সরকারের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে৷

‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ অর্থাৎ ক্ষমতায় ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন বরিস জনসন৷ ব্রেক্সিট নিয়ে রাজনীতিকদের দীর্ঘ টালবাহানার কারণে ক্লান্ত ভোটারদের সমর্থন চাইছেন তিনি৷ প্রথা ভেঙে ডিসেম্বর মাসে আগাম নির্বাচন আয়োজনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরতে চান জনসন৷

এদিকে আগামী জানুয়ারি মাসের শেষেও ব্রেক্সিট আদৌ কার্যকর হবে কিনা, হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বোঝাপড়ায় আসতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে ব্রাসেলসে সংশয় বাড়ছে৷

ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে মঙ্গলবার বলেছেন, ব্রিটেনে নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা বেশ কঠিন হতে পারে৷ ব্রিটেন যাতে মুক্ত বাজের সুযোগ নিয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে ইইউ-র মানদণ্ড খর্ব না করে, সে দিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করেন বার্নিয়ে৷ মোটকথা ইইউ বাজারের নাগাল পেতে হলে ইইউ মানদণ্ড মেনে চলতে হবে৷ তাছাড়া ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় বার বার বিলম্বের ফলে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময়ও কমে চলেছে৷

ঢাকা টাইমস/০৭নভেম্বর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :