ধামরাইয়ে খাসজমি ইজারায় ইউএনওর অনিয়ম!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
 | প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০৮

ঢাকার ধামরাইয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগের কথা জানান ডি এইচ শামীম নামের এক ব্যক্তি।

তবে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে ইউএনও বলেছেন, তিনি নিয়ম মেনে নতুন ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন।

ইউএনওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ডি এইচ শামীম বলেন, উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার (ভিপি কেইস নং ২৯/৬৯) দক্ষিণপাড়া মৌজার ১২৭ নং খতিয়ানের ২৫০ নং (এসএ) দাগের ৫৬ শতাংশ খাসজমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ইজারা নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন তিনি ও তার পরিবার। পিতার জীবদ্দশায় বাবার নামে এবং বাবার  মৃত্যুর পর ডিএইচ শামীম তার নিজ নামে ইজারাপ্রাপ্ত হয়ে বছর বছর তা নবায়ন করে আসছেন।

জমিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেখানে সীমানাপ্রাচীরসহ সেমিপাকা ঘর নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে জানিয়ে শামীম বলেন, তিনি শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌরসভা হোল্ডিং নম্বর নিয়ে তা ব্যবহার করেন। নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন ইজারাকৃত জমির রাজস্ব, বিদ্যুৎ বিল ও পৌরকর।

বরাবরের মতো চলতি বছরও ইউএনওর কাছে ইজারার আবেদন করেন শামীম। কিন্তু ধামরাই ইউএনও মো. সামিউল হক কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই চলতি বছর জমিটি মো. নজরুল ইসলাম নামের অন্য এক উপজেলাবাসীর কাছে ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ শামীমের।

ডিএইচ শামীম ধামরাই উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। আর চলতি বছর নতুন জারাগ্রহিতা মো. নজরুল ইসলাম সাভারের আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর এলাকার আজগর আলী মিয়ার ছেলে।

ডি এইচ শামীম বলেন, ‘উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে জমিটির ইজারা প্রাপ্তিতে আমাদের অগ্রাধিকার থাকার কথা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জমিটি ইজারা নিয়ে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আসছি, এমনকি ইজারার কোনো চুক্তিও ভঙ্গ করিনি। এখন কোনো নোটিশ ছাড়াই জমিটি বাইরের ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ায় আমরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

কোনো মহলকে খুশি করতে ইউএনও জমিটি ওই ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শামীম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার বলেন, ‘খাসজমির ইজারা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখেন। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’ তিনি এই প্রতিবেদকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

ইউএনও মো. সামিউল হক তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকারি খাসজমি  দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। যার কাছে সরকারি সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে বলে আমার মনে হয়েছে, তাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/১১নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :