নিত্যপণ্যের দামে কারসাজি

‘সরকার না চাইলে অস্থিরতা কমবে না’

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১১ | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২৩
ফাইল ছবি

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চলমান অস্থিরতার পেছনে সরকারের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। নিত্যপণ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মিকারী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার আন্তরিক হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব বলেই ভাষ্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভগের এই শিক্ষকের। অন্যথায় চলমান অস্থিরতা কমবে না বলেই মনে করছেন তিনি।

বেশ কিছুদিন ধরে নিত্যপণ্য পেঁয়াজের নজিরবিহীন দামবৃদ্ধির পর একটি অসাধু চক্র গুজব ছড়িয়ে লবণ নিয়েও কারসাজির পাঁয়তারা করছে। গতকাল কয়েকটি জেলায় এমন গুজবের প্রভাবে লবণ কিনতে সাধারণ মানুষও দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। গুজব ঠেকাতে মাঠে সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এমতাবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দেশে কোনো লবণ সংকট নেই বলেও জানিয়েছে।

নিত্যপণ্য নিয়ে এমন অস্থিরতার বিষয়ে নেহাল করিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে সামাজিক অস্থিরতা শুরু হলো। এটা এখন নতুন পণ্যের দিকে চলে যাচ্ছে। এসব করে কিছু লোক ফায়দা লুটছে। পকেট ভারী করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এর পেছনে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আছে। এটা দুঃখজনক।’

এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অনেকগুলো সংস্থা আছে। গোয়েন্দা সংস্থা আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যারা পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করলো একজনকেও ধরতে পারেনি তারা। কারো নামও কেউ জানতে পারেনি। এটা তো হতে পারে না।’

‘একটা বিষয় মানতে হবে যে যত ধরনের অস্থিরতা আছে তা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের যা বলা হচ্ছে তা হলো আইওয়াশ। আসলে এটাও এক ধরণের ক্যাসিনোবাণিজ্য।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারের সমালোচনা করে নেহাল করিম বলেন, ‘তিনি ক্যানিসো নিয়ে বলেছিলেন এর ক-ও তিনি জানেন না। অথচ কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা থেকেই লোকজন ধরা পড়লো। তাহলে তিনি যা বললেন সেটা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরব?’

‘গণমাধ্যমও তো দেখি সিন্ডিকেট নিয়ে মুখ খুলে না। কারো নাম লেখে না। ক্যাসিনোতে রাশেদ খান মেননের নাম চার নম্বরে লেখলো সবাই। তাহলে প্রথম তিনজন কে? কেন ভাসুরের নাম মুখে নিতে বারণ আছে?’

গুজব বা অস্থিরতার তৈরির পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সবসময় খেয়াল করবেন, শিশুকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে। কারণ সহজে মুক্তিপন বা দাবি আদায় করা যায়। নিত্যপণ্যও হলো তেমন। কারণ ধনী-গরীব সবার ঘরে এসব জিনিস দরকার।’

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সরকারকে আশু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কে এর পেছনে খেলছে বলতে পারবো না। তবে রাষ্ট্রকে খুঁজে বের করতে হবে। কারা সিন্ডিকেট করে, কারা গুজব ছড়ায় তাদের বের করতে হবে।’

এখানে সব থেকে বেশি কাজে আসে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারের আন্তরিকতা। সেটা না হলে কোনোভাবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব না। বরং ক্রমে এই সমস্যা বাড়তে থাকবে।’

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :