সম্ভাবনা সত্ত্বেও রপ্তানি বাণিজ্যে পিছিয়ে হিলি

সাজ্জাদ হোসেন, হিলি (দিনাজপুর)
| আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৬ | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০১

ব্যাপক সম্ভাবনা ও চাহিদা থাকার পরও চিটাগুড় ও রাইস ব্রান অয়েল ছাড়া তেমন কোনো পণ্য ভারতে রপ্তানি করা যাচ্ছে না দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। ভারতের অভ্যন্তরে কোয়ান্টাইল অফিসের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্দরটি আমদানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত অভ্যন্তরে কোয়ান্টাইল অফিস থাকলে মৌসুমি শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ থাকত। এতে আয় হতো বৈদেশিক মুদ্রা। কমত আমদানি নির্ভরতা।

কলা, শাক-সবজি, পেঁয়াজের ফুলকা, টমেটো, শসা, সজিনা, আলুসহ ভারতে বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু ভারত অভ্যন্তরে কোয়ান্টাইল অফিস না থাকার কারণে এসব পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না।  সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সেদেশের সরকারকে উদ্যোগী করা হলে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের সূত্রমতে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে চিটাগুড় ও রাইস ব্রানের অয়েল ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যে রপ্তানি করা হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম চার মাসে নভেম্বরের ২৬ তারিখ পর্যন্ত ৪৪ লাখ ৭২ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এই দুই পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকলে আরও কয়েক গুণ রপ্তানির বৈদেশিক মুদ্রা আসত দেশে। এলাকার কৃষকরাও পেতেন তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্যে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর একটি ব্যাপক সম্ভাবনাময় পোর্ট। এই পোর্ট দিয়ে ব্যাপক এক্সপোর্টের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু কিছু সমস্যার কারণে আমরা এক্সপোর্ট করতে পারছি না। সে দেশের কাস্টমস অফিসে বড় কোনো কর্মকর্তা নেই, কোনো পণ্য রপ্তানি করতে হলে সে দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য ছাড়করণের কাগজ নিয়ে কলকাতা, শিলিগুঁড়ির মতো জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। কোয়ান্টাইল অফিস না থাকায় আমরা কাঁচা পণ্য রপ্তানি করতে পারছি না।’

বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দরে ভারতের সঙ্গে এক্সপোর্ট রিলেটেড যে বাধাগুলো রয়েছে এর মধ্যে, ইন্ডিয়ান সাইটে কোনো কোয়াইন্টাইল অফিস নেই। এক্সপোট রিলেটেড অফিসগুলো কলকাতা, বেনাপোলকেন্দ্রিক। এতে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। যখন দেশে কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকা হয়, তখন আমরা আমদানি করি। আবার দেশে যখন ১০ টাকা কেজি মরিচ থাকে তখন এক্সপোর্টের সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি কলা ও শাক-সবজিসহ অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারি।’

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহিনুর রেজা শাহিন জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অনেকাংশে রপ্তানি কমেছে।  তিনি বলেন, ‘আমরা রপ্তানি আয় থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। সরকারিভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে, চাপ কমবে দেশের অন্যান্য বন্দরের ওপর থেকে।’

পানামা হিলি পোটের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রতাপ মল্লিক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি নেই বললেই চলে। বর্তমানে ভারতে যে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে সেটা রাইস ব্রান অয়েল ও চিটাগুড়। এই দুটি পণ্য ছাড়া আর কোনো পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে আমরা জানতে পেরেছি ভারত অভ্যন্তরে কোয়াইন্টাইল অফিস নেই। তিনি জানান, দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করলে এই স্থলবন্দরটি দ্বারা দুই দেশই উপকৃত হতে পারে।

ঢাকাটাইমস/৩ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত