বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

এসআই জলিল ফের দুই দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২১

রাজধানীর দারুস সালাম থানার সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদক ও কয়েক ধরনের অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবদুল জলিল মাতব্বরের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আজ রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম মাদক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

এর আগে এদিন অস্ত্র মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে এসআই জলিলকে আদালতে হাজির করে তাকে এই মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

মামলায় বলা হয়, দারুস সালাম থানার ৪ নম্বর দক্ষিণ কল্যাণপুরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের মূল ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ কোনায় মালামাল রাখার ফাঁকা জায়গায় গোপালগঞ্জে পাঠানোর উদ্দেশে বুকিং হওয়া একটি ফাইল কেবিন ও ট্রাঙ্ক থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে মর্মে কুরিয়ার সার্ভিসটির কর্মচারীরা পুলিশকে সংবাদ দেয়। এরপর মামলার বাদী পুলিশ পরির্দশক মো. দুলাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটার দিকে ফাইল কেবিনেটের ৪টি ড্রয়ার এবং একটি ট্রাঙ্ক থেকে একটি পিস্তল, ১১টি গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, চায়না রাইফলের গুলি ১০টি, রাইফেলের গুলি ৮টি, গুলির খোসা ১৩টি, শর্টগানের কার্তুজ ৪০টি ও ২০টি শর্টগানের ফায়ার করা কার্তুজের খোসা, ৩৬ দশমিক ৩০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের একটি সিতাহার, ১৩ দশমিক ৩৬ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের একটি গলার চিক, ৬ দশমিক ৩৯ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের একটি ব্রেসলেট, ১০ দশমিক ৯০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের একটি কানের জাপটা, ১১ দশমিক ৮৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের একটি কানের ঝুমকা, দুটি স্বর্ণের নাকফুল, রুপার দ্ুিট গলার চেইন, রুপার একটি পায়ের নূপুর এবং মাদকদ্রব্যের মধ্যে ৫ হাজার ২৮৯টি ইয়াবা, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৪০ দশমিক ৭৫ গ্রাম হেরোইন ও ৯ ক্যান বিয়ারসহ ৬৩ ধরনের আলামত জব্দ করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, জব্দকৃত মালামালের মালিক এসআই আব্দুল জলিল মাতব্বর। এরপর তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফাইল কেবিনেট ও ট্রাঙ্ক নিজের বলে দাবি করেন এবং একপর্যায়ে দারুস সালাম থানায় আসেন। তিনি এসে মালামাল তার বলে স্বীকার করেন এবং জানান, ভ্যানযোগে মালামাল নারায়ণগঞ্জ থেকে গোপালগঞ্জ পাঠানোর জন্য সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে নিয়ে আসেন এবং নিজ নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে বুকিং করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পরির্দশক মো. দুলাল হোসেন অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, উদ্ধার হওয়া মাদক ও অস্ত্র আসামি বিক্রির উদ্দেশ্যে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে পাঠানোর জন্য বুকিং করেছিলেন। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ ডিবি থেকে বদলি হয়ে গোপালগঞ্জ জেলায় যোগদান করেন।

(ঢাকাটাইমস/২৩ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :