করোনার ওষুধ আবিষ্কারে আশাবাদী বাংলাদেশি গবেষকরা

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ১৬:৪৪ | প্রকাশিত : ০৯ মার্চ ২০২০, ২২:৩২
প্রফেসর ড. রহমত উল্লাহ

বিশ্বের শতাধিক দেশে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ওষুধ আবিষ্কার করতে কাজ করছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) এর লাইভ সায়েন্স অনুষদের গবেষকরা জানিয়েছেন প্রাথমিক গবেষণায় অ্যাপিজেনিন, ভিটেক্সিন এবং আইসো ভিটেক্সিন নামের তিনটি যৌগিক উপাদান পাওয়া গেছে। যা নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম। প্রথম ধাপের গবেষণায় সফলতার পর সোমবার দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা শুরু হয়েছে। যা সফলতার মুখ দেখলে দেশের বাইরে ল্যাব টেস্টের জন্য নমুনা পাঠানো হবে।

সোমবার ইউডার লাইভ সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রহমত উল্লাহ ঢাকা টাইসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব তথ্য জানান।

এই গবেষক জানান, ড্রাইল্যাব বা কম্পিউটার গবেষণায় তিনটি যৌগিক উপাদান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে অ্যাপিজেনিন, ভিটেক্সিন এবং আইসো ভিটেক্সিন নামের তিনটি উচ্চ মাত্রার যৌগিক উপাদান রয়েছে। যা নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিপরীতে কাজ করতে সক্ষম। ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও এই গবেষণাটি যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

কেবল নিশিন্দা গাছ নয়, প্রাপ্ত উপাদানগুলো অন্যত্রও রয়েছে জানিয়ে এই গবেষক বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানানোর পরে অনেকে নিশিন্দা গাছ নিয়ে ব্যস্ত। নিশিন্দা বিষয় না। নিশিন্দা মাত্র একটা গাছ, যেখানে এই তিনটা উপাদান আছে। উপাদানগুলোর প্রথমটির কথা যদি বলি, অ্যাপিজেনিন। অ্যাপিজেনিনের সবচেয়ে ভালো সংস্থান হচ্ছে কালিজিরা। এছাড়া আমাদের দেশে যেসব ফল পাওয়া যায়, তারমধ্যে বাকি উপাদানগুলোও প্রচুর পরিমাণ রয়েছে।’

গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে প্রফেসর ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে ডাটাটা পেয়েছি, সে ডাটাটা ভুল না। শক্ত সম্ভাবনা রয়েছে যে, ডাটাটা ঠিকই আছে। তবে এটা খুবই অসম্পন্ন। কারণ আমরা সি-৩ প্রোটিয়েস পেয়েছি। এর মাঝখানে তো সি-৩ প্রোটিয়েস না এস প্রোটিন ভাইরাসের এইচ-২ হিউম্যান বডি এই দুটোর মধ্যে রিঅ্যাক্ট করছে। রিঅ্যাক্ট করে শরীরের মধ্যে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের পরবর্তী কাজটা হবে এস প্রোটিন ভাইরাসটাকে দেখা, প্রয়োজন হলে এই তিনটি কম্পাউন্ট (অ্যাপিজেনিন, ভিটেক্সিন এবং আইসো ভিটেক্সিন) নিয়ে দেখা। তবে এখানে গল্পের শেষ হবে না। এটাকে দেখতে হবে যে, এটা ভাইরাসটাকে বাড়তে দিচ্ছে না অথবা ভাইরাসটাকে মেরে ফেলছে।’

সোমবার থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা সফলতা পেলে এই ফর্মুলা ওষুধে রূপান্তরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই গবেষক। বলেন, ‘আমাদের কর্মপন্থা হচ্ছে, আজ থেকে এস প্রোটিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ শুরু হচ্ছে। আমরা দেখব, এইচ-২ টা কী দিয়ে ব্লক করলে এইচ-২ আর এস প্রোটিন একত্রিত হতে পারবে না। এটা যদি হয় আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব ভাইরাসটা প্রতিহত করতে পারব।’

গবেষণা সফল হলে কোনো প্যাটেন্ট না করে তা ওষুধ তৈরির জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলেও জানান গবেষক রহমত উল্লাহ। বলেন, ‘আমরা যে কম্পাউন্টগুলো পেয়েছি, তা ক্যামিকেল আকারে আগে থেকেই বাজারে রয়েছে। ফলে ওষুধ তৈরি সম্ভব হলেও তা খুবই কম দামে পাওয়া যাবে।’

গবেষণায় প্রফেসর ড. রহমত উল্লাহর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রওনক জাহান, প্রভাষক মো. আরিফ খানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কাজ করছেন।

(ঢাকাটাইমস/০৯মার্চ/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :