‘কারখানা বন্ধ রাখলেও সময় মতো বেতন দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৩

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে কারখানা বন্ধ রাখলেও শ্রমিকদের সময় মতো বেতন দেয়ার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

বৃহস্পতিবার বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান বলেন, কারখানা খোলা বা বন্ধ যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুননা কেন, সকল শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন অবস্যই সময়মত প্রদান করতে হবে।

একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় (৫ থেকে ৯ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে কারখানা বন্ধ রাখা না রাখার সিদ্ধান্ত সদস্য মালিকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিকেএমইএ।

এই সংক্রান্ত এক বিশেষ নির্দেশনা আরোপ করেছেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান।

সাধারণত ফ্যাক্টরির নিয়মিত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মাসিক বেতন পরবর্তী মাসের সাত কর্ম দিবসের মধ্যে দেয়া হয়।

বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের উদ্দেশে সেলিম ওসমান বলেন, প্রয়োজনে আপনার ব্যাংকের সাথে অগ্রিম যোগাযোগ করে ব্যাংক সহায়তা গ্রহণ করবেন। কোনো অবস্থাতেই মার্চ মাসের বেতন প্রদানের বিষয়ে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

‘কোনো অবস্থাতেই শ্রমিক অসন্তোষ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যদি কারখানা বন্ধ রাখতে চান তবে ছুটিকালীন সময়ে আপনার কারখানার শ্রমিকরা যে যেখানে অবস্থান করছে সে যেন সেখানেই অবস্থান করে তা পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে। তারদেরকে বুঝাতে হবে, এটা কোনো ঈদ বা উৎসবের ছুটি নয়। তাই যে যেখানে অবস্থান করে, তাকে সেখানেই থাকতে হবে। আপনি যদি আপনার কারখানাটি বন্ধ করার বিষয়ে ভাবেন, তা অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী করতে হবে, এ ক্ষেত্রে অবশ্যই বিকেএমইএর অনুমোতি নিতে হবে।’

বিশেষ নির্দেশনায় বলা ৪ এপ্রিলের পর থেকে কারখানা চালু রাখবেন কিনা বন্ধ রাখবেন এটি আপনার সিদ্ধান্ত। যদি কেউ কারখানা চালু রাখেন তাহলে, করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে আপনার শ্রমিকদেরকে রক্ষা করবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করবেন।

কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, আমারা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার বিষয়ে আপনাদের আগে জানিয়েছিলাম সেটা আপনারা মানছেন ধন্যবাদ।

‘এখন আপনি নিশ্চয়ই ইতোমধে ‘অবগত হয়েছেন যে, সরকার সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। ১০এপ্রিল শুক্রবার ও ১১এপ্রিল ব্যাংক ও সরকারি কার্যালয় ছুটি হওয়ায় সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকছে। এ অবস্থায় ৪ এপ্রিলের পর থেকে আপনি আপনার করাখানাটি পরিচালনা করবেন কিনা তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ’

জানা গেছে ছুটি ঘোষণা করায় পোশাক শ্রমিকদের বড় একটি অংশই গেছেন গ্রামের বাড়ি। বন্ধ রয়েছে যানবাহন। ফলে ৫ এপ্রিল কারখানা খুললে কাজে ফিরতে বেগ পোহাতে হবে শ্রমিকদের।

এদিকে কিছু পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটির মধ্যে বন্ধ থাকলেও শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উৎপাদনমুখী খাত সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত নয়। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিষয়টি আবারও বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, মালিকরা চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবে। তবে তাদের শ্রমিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২এপ্রিল/জেআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :