জামালপুরে করোনা রোগী নেই, সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে চেষ্টা

সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর
 | প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৮:২১

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে জামালপুর জেলায় এখন পর্যন্ত বিদেশফেরত বা স্থানীয় কোনো মানুষ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

জানা গেছে, জামালপুরে করোনাভাইরাস ঠেকাতে প্রথম ধাপেই জোর দেওয়া হয়েছে। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে, জামালপুর জেলায় ১ হাজার ১৯১ জন বিদেশফেরত ব্যক্তির তালিকা ধরে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের মধ্যে ২৭ মার্চ পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলায় ৫১১ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে ৩০৮ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, জেলায় এখনো ৬৮০ জন বিদেশফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সরকার টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিজ গ্রামের বাড়ি জামালপুরে ফিরে আসে হাজারও মানুষ। এসব মানুষকেও হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জামালপুরে এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত না হলেও জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে ৫০ শয্যার একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও ৫০ শয্যার একটি আইসোলেশন হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছে। এই দুটি ইউনিটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২ জন চিকিৎসক, নার্স এবং ওয়ার্ড বয়। এসব চিকিৎসক সর্দি-জ্বরসহ এসব উপসর্গেও চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হোম কোয়রেন্টাইন নিশ্চিত করা, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পূর্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা পরিষদ, সকল উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, সকল থানা পুলিশ, সকল পৌরসভা, সকল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী,স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ যার যার অবস্থান থেকে জনসাধারণকে সচেতন করতে নানামুখী প্রচারণা ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে তরল হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত ও বিতরণ করছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামালপুর ছাত্র কল্যাণ সংসদ।

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সেনা বাহিনী ও পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক একেএম শফিকুজ্জামান বলেন, জেলায় এখনো কেউ আক্রান্ত না হলেও সবাই আমরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছি। এ ভাইরাস মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে। চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ ভাইরাস মোকাবিলা করা খুবই কঠিন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৩এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :