‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন প্রণোদনার টাকা সহজেই পান’

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৮ | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৬:১৭
সফিকুল ইসলাম

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরকার যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিতে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা যেন সহজেই এ ঋণ পেতে পারে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সফিকুল ইসলাম। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জামানত দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জামানতবিহীন ঋণের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে মনে করছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৯ শতাংশ হারে এর সুদ দিতে হবে, যার ৪ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহিতা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিবে।

এ বিষয়ে সোমবার ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সফিকুল ইসলাম। প্রনোদনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হ্যাজার্ডের মধ্যে আছি, স্বাস্থ্য হ্যাজার্ডের পর পর যে অর্থনৈতিক বিপর‌্যয়ের আশঙ্কা সেটা উপলব্ধি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন । আলাদা করে এসএমই সেক্টরের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা তুলে ধরে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সততার সঙ্গে যেন প্রনদণার টাকাগুলো বন্টন হয়। এটা খুবই এ্যানালিটিকাল। এসএমই উদ্যোক্তাদের টাকাটা যে পদ্ধতির মধ্যে দেয়া হবে সেটা সহজীকিকরণ করতে হবে। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা আছে তাদের কাছে আমরা মতামত শেয়ার করবো।’

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন প্রণোদনা জামানতবিহীন পেতে পারে সে বিষয়ে জোর দিয়ে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এসএমই সেক্টরের সব বিষগুলোই তুলে ধরবো । নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ করতে জামানত ছাড়াই ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। তাই এ ঋণের টাকাও যেন জামানতবিহীন পায় সে বিষয় আমাদের প্রস্তাবনা থাকবে। কারণ উপমা তো আছেই, সে উপমা থেকেই আমারা বলবো।’

টাকা পাওয়ার পদ্ধতিটা সহজ থাকলে কাজট দ্রুত হবে বলেও মনে করছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার মতে, প্রসেস সিম্পলিফিকেশন উইল বি অ্যা মেজর এ্যাকশন। অর্থাৎ সহজে যদি উদ্যোক্তারা ঋণ পায় তাহলেই সেটা উদ্যেক্তাবান্ধব হবে।

‘আর যদি তা না হয় তাহলে তা উদ্যোক্তাবান্ধব হবে না। আমরা এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে মতামত তুলে ধরবো। আমাদের ধারণা শেয়ার করবো’- যোগ করেন তিনি।

প্রণোদনার গাইডলাইন তৈরি করার আগে যেন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে নেয়া হয় সেবিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিবো স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ করে যেন গাইডলাইন ফাইনাল করা হয়।

ছোট উদ্যেক্তাদের ব্যাংকের প্রতি একটা ভীতি কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উদ্যোক্তারা ফরমাল ব্যাংকে ভয় পায়। তাদের একটা মানসিক ভীতি আছে ব্যাংকের প্রতি। তাই অনু উদ্যোক্তাদের অনেককেই মহাজনি সুদ নিতে দেখা যায়, এতে দেখা যায় তাদের লাভের একটা বড় অংশই সুদ দিতে দিতে যায়। এখান থেকে বের করতে হবে তাদের।’

‘আরেকটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একেবারে গ্রামীন এলাকার অনু উদ্যোক্তারা কীভাবে এর সুফল পারে সেটা দেখা। কারণ গ্রামে ব্যাংকের শাখা কম থাকে। শহর এলাকায় ব্যাংক বেশি থাকে। গ্রামীন উদ্যোক্তাকে এক্সেস দিতে হলে কীভাবে দেয়া হবে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকিং ডিভিশনকে সিমপ্লিপিফাই করে দিতে হবে। বিশেষ করে আমাদের প্রাইভেট ব্যাংকের শাখা বেশিরভাগ নগরভিত্তিক।’

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে সার্বিকভাবে একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হবে জানিয়ে সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব বিষয় তথ্য উপাত্ত করে, আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করবো। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরবো আমাদের প্রস্তাবনাগুলো। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের কর্মীদের বেতন ব্যাংকিং চ্যানেলে দিতে পারে না এটা তাদের একটা বৈশিষ্ট। এ জন্যই তারা ক্ষুদ্র। এই জন্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, তাদের মনিটরিং করাও দরকার।’

এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরনসহ এ বিষয়ে সহায়তা করছে বলে জানান সফিকুল ইসলাম।

(ঢাকাটাইমস/০৭মার্চ/জেআর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :