করোনা: ইতালিতে একদিনে বাংলাদেশিসহ ৫৪২ জনের মৃত্যু

কমরেড খোন্দকার, ইউরোপ ব্যুরো
| আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০১ | প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৩:০৮

চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। মারাত্মক আকার ধারণ করা মহামারি করোনাভাইরাসে ইতালিতে আতঙ্কে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ। জনগণকে সুরক্ষা দিতে ইতালি সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার আক্রান্ত তুলনামূলক কম হলেও মৃত্যুবরণ করেছে ৫৪২ জন। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সালাউদ্দিন ছৈয়াল (৪৬) বেরগামোর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ২০ দিন আগে অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এই নিয়ে ইতালিতে চার বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে মারা গেলেন।

শরিয়তপুরের নড়িয়ার পাটদলের সালাউদ্দিন ইতালির লোম্বারদিয়া অঞ্চলের মিলানের পাশের শহর বেরগামোতে স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি বেরগামো সেন্ট্রাল মসজিদের সভাপতি ছিলেন।

এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে ৯৬ জন ডাক্তার রয়েছেন এবং ২৬ জন নার্স রয়েছেন। এদিন নতুন আক্রান্ত তিন হাজার ৮৩৬ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০৯৯ জন। চিকিৎসাধীন ৯৫ হাজার ২৬২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ জন বলে জানান নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।

তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৬ হাজার ৪৯১ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ২৩৮ জন। যা মঙ্গলবারের চেয়ে সংখ্যায় কম। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ২৮২ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে নয় হাজার ৭২২ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪১৮ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৮৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৪৯ জন। লোম্বারদিয়া অঞ্চলে মোট এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৫ হাজার ১৪৭ জন।

প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, জনগণের মনে সাহস জোগাতে প্রায় প্রতিদিনই সান্ত্বনা দিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন। কারো যেন মনোবল এখনই দুর্বল হয়ে না যায় সেই কারণে করোনা মোকাবিলায় জনগণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। জোসেপ্পে কন্তে দেশজুড়ে ‘জরুরি নয়’ এমন সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বাড়ির বাইরে সবধরনের খেলাধুলা ও ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপার মার্কেট, ফার্মেসি, পোস্ট অফিস ও ব্যাংক খোলা থাকবে এবং গণপরিবহনও সচল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তবে দেশের এই কঠিনতম সময় সহসাই কাটিয়ে উঠার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে লকডাউন রয়েছে। এ সময় আরো বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

(ঢাকাটাইমস/৮এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত