দেশে ফিরতে উদগ্রীব রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারতীয় শ্রমিকরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০২০, ০০:০৭

বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ভারতীয় প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক দেশে স্বজনদের কাছে ফিরতে চাইছে। রবিবার সকালে জেলার রামপাল উপজেলার সাপমারী-কৈগর্দশকাঠি এলাকার নির্মাণাধীন ওই বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকরা প্রধান ফটকের বাইরে এসে দেশে ফেরার দাবিতে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল অংশে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে ভেতরে পাঠায়।

এর আগে গত ৪ মে এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই শতাধিক শ্রমিক দেশে ফিরতে রাস্তায় অবস্থান নেন।

ভারতীয় শ্রমিকদের দাবি, আমরা এখানে প্রায় দুই বছর ধরে কাজে নিয়োজিত। পরিবার-পরিজনের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে আমরা সবাই দুশ্চিন্তায় পড়েছি। দিন যত যাচ্ছে, তত আমরা ভয়ে আছি। এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ভাল নেই। পরিবারের কাছে দেশে ফিরতে এখানকার কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হলেও তারা আমাদের ফেরার ব্যবস্থা করছে না। তাই আমরা সবাই দেশে ফিরতে প্রকল্প এলাকা দিয়ে বাইরে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেই। পরে পুলিশ এসে আমাদের ভেতরে নিয়ে যায়। দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন এই উদ্বিগ্ন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের উপ-প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজে ভারতের প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়োজিত। গত দুই বছর ধরে তারা এখানে কাজ করেন। মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই প্রকল্প এলাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতজুড়ে এখন লকডাউন। এই প্রকল্পের কর্মরত দেড় হাজার শ্রমিকের মধ্যে প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তাই তারা দেশে ফিরতে চান। তাদের ফেরার বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসে আমরা কথা বলেছি- তারা উদ্যোগ না নিলে আমরা কিভাবে এই শ্রমিকদের দেশে ফেরাব- তাই বোঝাতে পারছি না। ভারত সরকার চাইলে আমরা এদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। ভারত সরকারের সাহায্য ছাড়া এদের দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তারা আমাদের কথা না শুনে বেলা ১১টার দিকে সহস্রাধিক শ্রমিক প্রধান ফটক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের প্রকল্প এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড যৌথভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ভারত সরকার যৌথভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারি-কাটাখালী ও কৈগরদাশকাঠী এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ১৮৩৪ একর জমির উপর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮মে/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :