যমুনার ভাঙ্গনে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০০ পরিবার আশ্রয়হীন

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ জুলাই ২০২০, ২১:১৬

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরপরই জামালপুরের মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল গ্রামের যমুনা নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনের টানা ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০০ পরিবারের ঘর বাড়ি। এতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ওই পরিবারগুলো।

এছাড়া ফসলি জমিসহ আরও ১৫০ বাড়ি-ঘর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ একর জায়গার জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে ভাঙ্গন কবলিতরা।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা কুলসুম বেগম জানান, নি:স্ব থাকায় সরকারের দেওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। এখন সেই ঘরটিও বিলীন হয়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে তাদের। তিনি অতি দ্রুত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

পাকরুল গ্রামের কৃষক আজাহার আলী জানান, একদিকে বন্যার কবলে পড়ে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভাঙ্গনের মুখে পড়ে নি:স্ব হয়েছেন তিনি। এখন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকার সহযোগীতা না করলে তাদের রাস্তা-ঘাটে থাকতে হবে।

চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌফিকুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যা আর নদীভাঙ্গনে তার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভিটা-মাটি হারিয়েছেন প্রায় ২৫০০ পরিবার। প্রায় ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার ইউনিয়নের আরও ক্ষতি হবে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, ভাঙ্গনরোধে জেলার ইসলামপুর উপজেলার মাইজবাড়ী থেকে মাদারগঞ্জের কাঠমা পর্যন্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাকরুলে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় সেই প্রকল্পে পাকরুল এলাকা সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলেই ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে যমুনা ও ব্রম্মপুত্রের পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও এখনও জেলার কয়েকটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বন্যা কবলিতরা। তাদের দুর্ভোগ কমাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলা ও আটটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিবন্দি হয় ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রাম। এছাড়া ৯৩২২৫টি পরিবারের ৩ লাখ ৯৮৬২৩ জন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১৩৩৪৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এছাড়া ১২৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ২৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তার আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যার পানির তোড়ে ৪৫৭টি ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৬৩০৬টি ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘর-বাড়ি ছাড়াও ৩৫৫টি নলকূপ ও ৩৮১টি টয়লেট, ৪১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ব্রিজ কালভার্ট ও তিন কিলোমিটার বাঁধের আংশিমক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া এবারের বন্যার পানিতে ডুবে পুরো জেলায় শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ।

ঢাকাটাইমস/৯জুলাই/পিএল

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :