তুরাগতীরে পানিবন্দি শত শত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৬:২১ | প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৫:১৩

দেশের ৩৩ জেলায় বন্যা এবং নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। ঢাকাকে ঘিরে থাকা সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তুরাগ নদের পানি। এতে তুরাগতীরের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই পানিবন্দি মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার শত শত পরিবার। বন্যায় সব তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটে পড়েছেন তারা।

রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গোড়ান চটবাড়ি এলাকার ইস্টার্ন হাউজিং দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানিবন্দি। গাড়ি চলাচলের সড়কে এখন যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। যাদের অন্যত্র যাওয়া জায়গা আছে এরই মধ্যে তারা সেখানে চলে গেছেন। আর যাদের জায়গা নেই তারা এখানেই কষ্ট পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয় এলাকাটি। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৩ থেকে ৪ ফুট পানিতে ডুবেছে ইস্টার্ন হাউজিং।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পানি বাড়ার কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের মতো যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তারা বাধ্য হয়ে এবং কষ্ট করে এখানে থাকতে হচ্ছে। আমাদের এখানে খাবার পানি পর্যন্ত নেই। আশেপাশের হোটেল, রেস্টুরেন্টে গিয়ে পানি খেয়ে আসতে হয় অথবা নিয়ে আসতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অনেকদিন আগেই পানি উঠছে। রাস্তা দিয়া হাঁটা যায় না, নৌকা লাগে। খাবারের পানি, খাবার রান্নার ব্যবস্থা কোনো কিছুই ঠিকমতো নাই। কিন্তু কোনো নেতা বা সরকারের কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসে নাই। এক দিকে করোনাভাইরাস আরেক দিকে বন্যা। আমরা খুব বিপদে আছি।‘

এদিকে এলাকাটি পানিবন্দি হওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এখান এখানকার বেশ কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, বেকারি কারখানা, টাইলস তৈরির কারখানা। যার ফলে বেকার হয়ে গেছেন এখানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা অনেক মানুষ।

ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার মতো করেই তুরাগের পানি ঘরে পৌঁছেছে নদের তীরভূমিতে অস্থায়ী ভাবে তৈরি করা ঘর বাড়িতে। এসব ঘরে বসবাস করেন ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষরা। এছাড়া গাবতলী থেকে মিরপুর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বিরুলিয়া হয়ে ধউর পর্যন্ত নদের দুই পাড়ে পানিবন্দি হয়ে পরেছে শত শত পরিবার।

(ঢাকাটাইমস/০৯আগস্ট/কারই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :