রিকশাওয়ালার অট্টহাসি...

আমিনুল ইসলাম
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১৭:০৯

কয়েক বছর আগে এক দুপুরে আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী আদালত বসার কারণে আশপাশে যানবাহন চলাচল বলতে কিছু ছিল না। আমার যাওয়া দরকার গেন্ডারিয়ায়। ছিল কয়েকটা রিকশা। এক রিকশাচালক আমাকে এই আশ্বাস দেয় যে সে পুরান ঢাকার জিলাপীর প্যাঁচে না ঢুকে ডাইরেক্ট গুলিস্তান টু রাজধানী মার্কেট হয়ে গেন্ডারিয়া নিয়ে যাবে।

আমি বলি, সোজা তো সম্ভবত যেতে দিবে না। সে হেসেই খুন। বলে ‘সে দায়িত্ব আমার, আপনি উঠেন তো।’

সে পুরোনো অভ্যাস মতো সোজা গুলিস্তান বরাবর রিকশা চালানো শুরু করে। পথের প্রথম চৌকিতে এক কমিউনিটি পুলিশ যখন থামায় আমার রিকশাচালক আলগোছে তার হাতটা বিশেষ ভঙ্গিতে তার দিকে বাড়িয়ে দেয়। হাতের মুষ্টিতে একটা দশ টাকার নোট। আমি অন্যমনস্ক- কিছুই দেখছি না এমন ভান ধরে থাকি। কিন্তু রিকশাচালককে হতভম্ব করে দিয়ে সে টাকাটা নিতে অস্বীকার করে সোজা যাওয়া যাবে না সাফ বলে দেয়।

সে তখন রিকশাটা বামে ঘুরিয়ে আরেক চৌকি দিয়ে গুলিস্তান বরাবর যাবার উদ্যোগ নেয়। দ্বিতীয় কমিউনিটি পুলিশও তার সাথে একই ব্যবহার করে। সে লুকিয়ে দশ টাকা সাধে, আমি কিছুই দেখছি না ভান ধরি, পুলিশ টাকাটা ফিরিয়ে দিয়ে ওই পথে যেতে বাধা দেয়।

চালকের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল এ তার এক নতুন অভিজ্ঞতা। এমনটা কখনো হয়নি বা হতে পারে বলে তার অনুমানে ছিল না।

পরে সে যখন রিকশা পুরান ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে সরু গলিপথে ঢুকতে যায় আমি তাকে মনে করিয়ে দেই, ‘তুমি না বললা সোজা চলে যাবা, কেউ কিছু বলবে না।’ আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই ‘কমিউনিটি পুলিশ ধরা খাইছে, কমিউনিটি পুলিশ ধরা খাইছে'’ বলে সে উচ্চশব্দে হাসতে থাকে। সে কি অট্টহাসি!

কোনোমতে হাসির ভলিয়ম একটু কমিয়ে সে বলে, পরনের কোট, টাই দেইখা কমিউনিটি পুলিশ আপনারে ভিআইপি মনে করছে, ডাক্তার যে ওইটা বুঝতে পারে নাই। ভিআইপির সামনে ঘুষ খাইলে চাকরি যাইতে পারে তাই ভালো মানুষের ভান ধরছে। তারপর তার আবার অট্টহাসি হা...হা... হি...হি...

লেখক: আমিনুল ইসলাম, চিকিৎসক, এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (চেস্ট ডিজিস), বিএসএমএমইউ

ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :