‘মোরগ লড়াই’ টিকিয়ে রাখতে গবেষণা খামার

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনাজপুর
| আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১৯ | প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৩৩

লড়াকু আসলি মোরগের গবেষণা খামার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাণিজ আমিষের উৎস এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মোরগ লড়াই টিকিয়ে রাখতে আসলি মোরগ পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের অভিটোরিয়াম-২-এর পাশে গড়ে তোলা এই খামারে দুর্লভ প্রজাতির আসলি মোরগের পাশাপাশি বন মোরগের বংশ বিস্তারেও কাজ করা হচ্ছে।

এই খামার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জনপ্রিয় ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও বাইরে থেকে অনেক দর্শনার্থী আসছেন আসলি মোরগ দেখতে। খামারের মোরগের লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেকেই। আসলি মোরগের খামার গড়তে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

চারপাশে অসংখ্য মানুষের বৃত্তে প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে দুটি মোরগ। মোরগের লড়াই দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে ছুটে আসে মানুষ। এ খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রাম-বাংলার শিশু-কিশোরদের জন্য এই মোরগ লড়াই ছিল এক জমপেশ খেলার নাম।

তবে, গ্রামবাংলায় সচরাচর এই চিত্র সময়ের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। মোগল আমল থেকেই বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রসিদ্ধ এই খেলা ও আসলি মোরগ দুই-ই হারিয়ে যেতে বসেছে।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল আসলি মোরগের জন্য খ্যাত। আসলি মোরগ লড়াইয়ের স্পোর্টিং ক্লাবও আছে সেখানে। নিয়মিত মোরগ লড়াই ও মোরগ পালন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লড়াইয়ের ডাক আসে সরাইলের আসলি মোরগের।

এ খেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আসিল মুরগির গবেষণা খামার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ গবেষণা চলছে। আহসান হাবিব প্রামাণিক নামে একজন প্রাণিসস্পদ কর্মকর্তা এ নিয়ে পিএইচডি করছেন।

তিনি জানালেন, লম্বা পা, ইগলের মতো চোখ, কম পালকের দুর্লভ প্রজাতির আসলি মোরগ লড়াইয়ের জন্য সেরা। এ মোরগের নিজস্ব ফ্লাইং কিকের স্টাইলগুলো মানুষ বিভিন্ন নামে চিত্রিত করে। আসলি মোরগ দেখতে হিংস্র হলেও এরা খুব প্রভুভক্ত। মালিকের আদর বোঝে, দেখলে ডাকতে থাকে, সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি করে। আদর করে এদের নামও রাখা হয়। প্রভুভক্ত এই মোরগ মালিকের সম্মান রাখার জন্য খেলার মাঠে নিজের জীবন দিয়ে দেবে, কিন্তু হার মানতে নারাজ। অসম্ভব তেজি এ মোরগ। দারুণ উড়তে পারে এরা। এদের পেছনের আঙুলটি এক ইঞ্চির বেশি লম্বা, দেখতে সূচালো পেরেকের মতো।

বন মোরগ নিয়ে গবেষণারত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান মিথু জানান, বাণিজ্যিকভাবে আসলি ও বন মোরগের খামার আমাদের দেশে লাভজনক। এ দুটি পাখি প্রজাতি মুরগি বাংলাদেশের ঐতিহ্যেরও ধারক। সবচেয়ে সুবিধা হলো, এ জাত দুটি পালনে তেমন ঝামেলা নেই, কারণ এরা নিজেরা চরে খায়, অনেক বড় হয়। এ মোরগ প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত বর্ধনশীল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান এম.এ. গাফফার জানান, লড়াক মোরগ ও বন মোরগের খামার করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের এই সাফল্য এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশে এই আসিল ও বন মুরগির খামারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটাই সাক্ষ্য দিচ্ছে খামারটি।

সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এই লড়াকু মুরগি ও বন মোরগের খামার গড়ার প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে এমনটাই মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

(ঢাকাটাইমস/২৩অক্টোবর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :