পুঁজিবাজারে এসএমই খাতের অনেক সম্ভাবনা: শাকিল রিজভী

শাহ মো. সাইফুল ইসলাম
ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৯ | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৩

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো সফল হয়েছে। এই খাতে বাংলাদেশের রয়েছে অনেক বেশি সম্ভাবনা। আর তাই এসএমই খাতে পুঁজি প্রবাহ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। এসএমইর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়ে মূল মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত হবে বলে মনে করছেন স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশা প্রকাশ করেন একাধিকবার ডিএসইর সভাপতির দায়িত্ব পালন করা শাকিল রিজভী। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ডিএসইর সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনে ব্যাপক উত্থান ও ধসের সময়ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের পুঁজিবাজার নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন ঢাকা টাইমসের সঙ্গে।

শাকিল রিজভী বলেন, এসএমই খাতের মাধ্যমে ভারত সফল হয়েছে। চায়না সফল হয়েছে। চায়না শুধু সফলই না তারা তাদের দেশের ছোট-ছোট ব্যবসায়ীদের এসএমইর মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে করে চায়নার ছোট ব্যবসাগুলো এক-একটা ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে চায়নার প্রায় ৩০টি এসএমই কোম্পানি মূল মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত।

আমরাও আমাদের দেশে সেটাই আশা করছি। এসএমইর মাধ্যমে অর্থ নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা একপর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হবে এবং মূল মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত হবে।

এসএমই খাতের এমন সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিলসো অ্যালোস লিমিটেড নামে প্রথম এসএমই কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির ৭৭০তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, কোম্পানিটিকে সাড়ে সাত কোটি কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে কোম্পানিটি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এই টাকা সংগ্রহ করবে। ৭৫ লাখ সাধারণ শেয়ার প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে কিউআইও-এর মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এ থেকে প্রাপ্ত পুঁজি কোম্পানিটি ভূমি উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং আইপি খরচ খাতে ব্যায় করবে।

কোম্পানিটির ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ সময়কালের অর্থিক বিবরণী অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৯১ টাকা এবং পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতি ছাড়া নিট সম্পদমূল্য (কর ব্যতীত এনএভি) ১৯.৯৩ টাকা। এনএভি প্লাটফর্মে লেনদেনের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর ইস্যুয়ার কোম্পানি কোনো বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না।

এই অফারে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে যেসব স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর বাজারমূল্যে বিনিয়োগের পরিমাণ অন্তত এক কোটি টাকা।

এটি কোনো পাবলিক অফার নয়, বাংলাদেশে এসএমই প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির জন্য এটাই প্রথম কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত যোগ্য বিনিয়োগকারী অফার (কিউআইও)। কোম্পানিটির ইস্যুয়ার ব্যাবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাকিল রেজভি বলেন, পুঁজিবাজার বন্ধ থাকলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভীতি কাজ করে। যার কারণে বাজার খারাপ হতে থাকে। আবার বন্ধের পর মার্কেট খুললে প্যানিকের কারণে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে। এতে বাজার খারাপ হতে থাকে। কিন্তু এবার বাজার খোলা রাখার কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আর আতঙ্ক দেখা যায়নি। তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

সাবেক ডিএসই সভাপতি বলেন, বর্তমান কমিশন বন্ডের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এটা মার্কেটের জন্য খুবই ভালো। পৃথিবীর সব দেশেই ইক্যুইটি মার্কেটের পাশাপাশি বন্ড মার্কেট রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে শুধু ইক্যুইটি মার্কেট রয়েছে। দেশ যেহেতু উন্নত হচ্ছে সেহেতু আমাদেরও বন্ড মার্কেটের দিকে এগোতে হবে। সে জন্যই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বন্ডের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশ যেহেতু উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, ক্যাপিটাল মার্কেটও উন্নত হবে। দুই এক বছর পর হলেও এই মার্কেট অনেক বেশি উন্নত হবে। কারণ দেশ এগিয়ে গেলে স্টক মার্কেট পিছিয়ে থাকতে পারে না। এটা পৃথিবীর কোনো দেশেই নাই।

ক্যাপিটাল মার্কেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাই ইক্যুইটি মার্কেটের পাশাপাশি বন্ড মার্কেটের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন শাকিল রিজভী। এতে করে বাংলাদেশের স্টক মার্কেট দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে এগিয়ে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/এসআই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :