তৃণমূলের চার শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার, সিবিআই দপ্তরেই ধরনায় মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ১৪:২১ | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০২১, ১৩:৫৭

পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত নারদ স্টিং অপারেশন মামলায় হঠাৎ করেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের চার শীর্ষ নেতাকে। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে রাজ্যের দপ্তর নিজাম প্যালেসে নিয়ে গেছেন। এরপরই ওই ভবনে পৌঁছে ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।

গ্রেপ্তারকৃত চার নেতার মধ্যে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তথা তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও রয়েছেন মদন মিত্র, সুব্রত মুখার্জি ও শোভন চট্টোপাধ্যায়। নেতা, মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল।

মমতার দাবি, রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে যখন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তখন তাকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। নিজাম প্যালেসে ঢোকার আগে তিনি বলেন, দলের গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের দেখতে এসেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিজাম প্যালেসে তৃণমূলের গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের নেয়ার পর সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সময় গড়াতে ভিড়ও বাড়ছে সেখানে। সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, নারদকাণ্ডে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফিরহাদ হাকিমকে। এরপর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় বাকি তিনজনকে।

সংবাদমাধ্যমকে গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কী কারণে তাদের হঠাৎ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে বিশেষ কিছু জানেন না তারা।

ফিরহাদ হাকিম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার এক মেয়ে নিজাম প্যালেসে যান। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। মদন মিত্রের ছেলে জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ২০০-২৫০ জওয়ান নিয়ে সিবিআই অফিসাররা বাড়িতে আসেন। গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান মদন মিত্রকে। কেন গ্রেপ্তার, কী ধারায় কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন মদন মিত্রের ছেলে।

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ও নিজাম প্যালেসে যান। নিজাম প্যালেসে পৌঁছে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। গোটা বিষয় নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, যে ধারায় মামলা করা হয়েছে তাতে জামিন হয়। আর এত দিনের পুরনো একটি মামলায় এখন গ্রেপ্তার করার কী প্রয়োজন হল। সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে যত বার ডাকা হয়েছে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তারা শুনেছেন বিচারপতির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তদের হেফাজতে রাখতে চাইছে সিবিআই।

সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সোমবারই তারা আদালতে চার্জশিট জমা দেবে। তার আগে চার্জশিটে যাদের নামে অভিযোগ, তাদের আটক করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যপালের কাছে থেকেও অনুমতি চেয়েছিল সিবিআই। রাজ্যপাল সেই অনুমতি দিয়েছেন।

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই স্টিং অপারেশনের ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। যেখানে দেখা যায় তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের ঘুষ নিতে দেখা যায়। এই স্টিং অপারেশন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি।

ঢাকাটাইমস/১৭মে/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :