ইনডোর প্লান্ট লাগানোর নিয়ম-কানুন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ জুন ২০২১, ০৯:০৪

যান্ত্রিকতার এই শহরে একটু সবুজ এনে দিতে পারে সজীবতা। সারাদিনের ঘর্মক্লান্ত শ্রান্ত দেহটা নিয়ে যখন ঘরে পা দিবেন, তখন এক ঝলক সবুজ আপনাকে দিবে প্রকৃতির পরশ। তবে বাড়ির আঙিনায়, লনে, বারান্দায় বা ছাদে গাছ লাগানোর চর্চা অনেক পুরোনো। তবে ঘরের ভেতরেও আজকাল শোভা পায় নানা রকম গাছ। বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া বাগান সবার থাকে না তবে গাছ লাগানোর শখ অনেকেরই থাকে, নিজের ইচ্ছেমতো গাছ লাগান অনেকেই। কিন্তু গাছ লাগানোর যে কিছু নিয়ম কানুন আছে, তা কি জানেন? এমনটাই মনে করেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।

যেসব গাছ কম সূর্যের আলো ও ছায়ায় বেড়ে উঠতে পারে যেমন- পাতাবাহার, ক্যাকটাস, চাইনিজ পাম, পনিটেইল পাম, পেপেরোমিয়া, জিজি প্ল্যান্ট, বাহারি কচু, মথ অর্কিড, এরিকা রোজ, কেবি রোজ, বাঁশপাতা, গ্রেপ আইভি, ইংলিশ আইভি, ড্রেসিনা, আইভি লতা, কুইনস টিয়ারস, পেপেরোমিয়া ইত্যাদি। এ গাছগুলোকে হলো ইনডোর প্ল্যান্ট। ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য খুব বেশি আলো বাতাসের দরকার হয় না, কিন্তু একদম বদ্ধ ঘর হলেও চলবে না। যত্নের পাশাপাশি ঘরে আলো বাতাসের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখবেন।

বড়, লম্বা গাছগুলো দক্ষিণ, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে রাখা উচিত এবং বড় গাছগুলো যাতে শিকড় দৃঢ়ভাবে মাটিতে রোপণ করা যায় এমন জায়গায় রাখা উচিত বলে মতামত বাস্তু বিশেষজ্ঞদের।

তুলসি গাছ উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিকের দিকে রাখলে ভাল এবং ছোট-বড় ফুল গাছগুলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রাখা উচিত বলে মতামত বাস্তু বিশেষজ্ঞদের। খেতের ফসল যেমন সজনে, হলুদ, জামরুল, কাঁঠালের মতো গাছ বাড়়িতে না লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।

ছোট শরবগুলো উত্তর পূর্ব দিকের মধ্যে সবচেয়ে ভাল থাকে। ছোট কিংবা ঝোপ জাতীয় গাছ বাড়িতে উত্তর-পূর্ব দিকে লাগালে বাড়িতে সুখের আগমন হয়। আর বড় গাছ বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে লাগাতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেখতে ভাল হলেও বাড়িতে বনসাই গাছ লাগালে বাড়ির উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেয়। শুভ কাজেও বাধা পড়ে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। বাঙালি বাড়িতে তুলসিমঞ্চ থাকে, তুলসি ও নিমের মতো গাছ বাড়িতে থাকা শুভ, নিম গাছ বাড়ির পিছনদিকে লাগানো উচিত বলে মতামত বাস্তু বিশেষজ্ঞদের।

পেপেরোমিয়ার গাছ সবার কাছে এতটাই জনপ্রিয় যে প্রায় প্রত্যক বাসা বাড়ির নিচে এবং ছাদের দেখা যায়। আপনি চাইলে ঘরেও লাগাতে পারেন পেপেরোমিয়া। এর পাতার রঙের ছটা ঘরকে করে তোলে বর্ণময়। বসার ঘরের এক কোনায় পেপেরোমিয়া লাগাতে পারেন। এটা খুব ছোট পটেই এঁটে যায়, বেশি জায়গা নষ্ট করবে না। মাঝারি আলোয় রাখলে ভালো হয়। তবে এই গাছের পাতা বিষাক্ত। বাসায় কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখবেন। গাছের পাতা দেখলে আপনার আদরের কুকুর বা বিড়ালের তা চিবুতে ইচ্ছা হতেই পারে!

যেহেতু ইনডোর প্ল্যান্ট ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তাই এসব গাছ বেশি বড় হতে না দেয়াই ভালো। এতে ঘর অন্ধকার দেখাবে।

অনেকে মনে করেন ঘরে গাছ লাগালে মশা মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব হতে পারে। কথা সত্য। তবে সেটা যদি হয়, আপনি কখনোই টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করেন, ঠিকভাবে গাছের পরিচর্যা না করেন তখন। যাদের অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমস্যা আছে তারা শোবার রুমে গাছ রাখবেন না।

আপনার বাসায় ফ্রিজ, অ্যারোসল বা মশার কয়েল এবং আপনি যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করেন, তার জন্য ঘরে গাছ লাগানো জরুরি। নিজে গাছ লাগান, সন্তানদের মাঝেও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। কারণ কাল আপনার সন্তানকেই এই দূষিত পৃথিবীর বাতাসে শ্বাস নিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/৯জুন/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :