ক্ষুধা মেটাতে রাস্তায় বাইক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

আমিনুল ইসলাম মল্লিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০২১, ২২:২৬

গত দেড় বছর আদালত বন্ধ। তবে, সীমিত পরিসরে অতীব জরুরি ফৌজদারি বিষয় শুনতে কিছু আদালত চালু আছে। এতে বিলম্ব হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া আর অর্থ কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসুদ রানা। আয়-ইনকাম না থাকায় পেটের ক্ষুধা মেটাতে রাস্তায় নেমেছেন মোটরবাইক নিয়ে। করোনাকালে জীবন-যাপন ও বাইক চালানো নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন ঢাকাটাইমসের সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম মল্লিক

ঢাকাটাইমস: করোনায় কেমন চলছে দিন-কাল?

মাসুদ রানা: এক বছর চার মাস হলো আদালত বন্ধ। তবে, সীমিত পরিসরে অতীব জরুরি ফৌজদারি বিষয় শুনতে কিছু আদালত চালু ছিল। আমি সুপ্রিম কোর্টে উকালতি করি। করোনায় কোর্টের বেঞ্চ খুবই কম। মামলা করতে পারি না। ইনকামও হয় না। তাই সংসার চালাতে রাস্তায় নেমেছি বাইক নিয়ে।

ঢাকাটাইমস: বাইক চালিয়ে ইনকাম কেমন হচ্ছে?

মাসুদ রানা: খুব একটা ভালো না। একবেলা বাইক চালাই। বিকালে চালাই, এতে করে ইনকাম কম। গাড়ির তেল ও অন্যান্য খরচ বাদে যে ইনকাম হয়, তাই দিয়েই চলার চেষ্টা করছি।

ঢাকাটাইমস: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাস্তায় বাইক চালান, আপনার অনুভূতি জানতে চাই

মাসুদ রানা: এখন লকডাউন স্থগিত হলেও কোর্ট বন্ধ। সকল পেশার মানুষ কাজ করতে পারছে, শুধু আইনজীবীরাই কর্মহীন। দীর্ঘ এক বছর চারমাস উপার্জনহীন থাকলেও বাড়িভাড়া, চেম্বার ভাড়া, বার কাউন্সিল, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ জীবনযাপন ব্যয় থেমে নেই। কোর্ট অফিসারদের চরম দুর্দিন চলছে। অনেকেই আপদকালীন ভিন্ন পেশা গ্রহণ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোর্ট খোলার আশায় আছেন। কিন্তু আমি অতি সাধারণ, তাই এত কিছু না ভেবে কর্ম এবং উপার্জনের জন্য আপদকালীন এই বাইক রাইডিং পেশা শুরু করলাম।

ঢাকাটাইমস: আদালত খুলতে আপনার পরামর্শ কী?

মাসুদ রানা: সারাদেশে ৬৭ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। যাদের পেশার প্রয়োজনে ঢাকাসহ জেলা সদরে বসবাস করতে হয়। সরকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে কিছুই পাওয়া যায় না। যদিও হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আইনজীবীদের মাধ্যমেই সরকার পায়। বর্তমানে অন্য সব পেশার মানুষের থেকে আইনজীবীরা চরম ক্রান্তিকাল পার করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টের এক প্রজ্ঞাপনে আদালতগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তখন থেকে আপিল বিভাগে একটি ও হাইকোর্টে তিনটি বেঞ্চ সীমিত পরিসরে চালু ছিল। এরমধ্যে গত ১৫ জুলাই একদিনের জন্য হাইকোর্টের ৩৮টি বেঞ্চ এবং ১৯ জুলাই ৩৬টি বেঞ্চ চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকছেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জেলা-মহানগরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬ জুলাই/এআইএম/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :