ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে মটরশুঁটি

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:০৬

মটরশুঁটিকে নিউট্রিশনের পাওয়ারহাউজ বলে। মটরশুঁটি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য। পোলাও, খিচুড়ি, তরকারির পাশাপাশি সালাদের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায় মটরশুঁটি। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এই সবজির জুড়ি নেই।

মটরশুঁটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। নিয়মিত মটরশুঁটি খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ, পাকস্থলীর ক্যানসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে এবং হৃৎপিণ্ড সতেজ ও হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

মটরশুঁটি সবজি হলেও আমিষের জোগান দিতে সক্ষম। যারা মাছ বা মাংস থেকে আমিষ বেশি পেতে চান না, তারা এটি খেতে পারেন। এটি একটি উৎকৃষ্ট উদ্ভিজ্জ আমিষ।

সবুজ মটরশুঁটি হার্ট সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকিও কমায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এটি নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ভারসাম্য বজায় থাকে, যার ফলে আমরা অনেক রোগ থেকে দূরে থাকি।

এছাড়া এতে আছে নানা ধরনের ভিটামিনের সমাহার। যেমন-ভিটামিন এ, বি ওয়ান, বি সিক্স এবং ভিটামিন সি। সবচেয়ে বড় কথা, মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন কে। এটি রক্ত তরল রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে কড়াইশুঁটিতে রয়েছে। শীতকালে নানান রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

মটরশুঁটিতে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা ওজনও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীর থেকে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়াতে দেয় না। আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিডের পাশাপাশি মটরশুঁটিতে এমন অনেক ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ করে উপকারী। তাই গর্ভাবস্থায় মটরশুঁটি খাওয়া উপকারী।

শরীরের যেকোনও স্থানে পুড়ে গেলে মটরশুঁটির পাতলা পেস্ট লাগালে আরাম পাওয়া যায়। এটি পোড়া জায়গায় শীতলতা প্রদান করে এবং ক্ষতকে বাড়তে দেয় না।

জয়েন্টের ব্যথা এবং সে সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে এই সবুজ মটর খুব উপকারী। এতে উপস্থিত ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ওমেগা ৩ ফ্যাট জয়েন্ট সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে উপকারী।

সবুজ মটরশুঁটি মুখের ময়লা দূর করে। জলেতে মটরশুঁটি সিদ্ধ করে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

মটরশুঁটিতে উপস্থিত ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে ঠিক করে, যা বদহজম, গ্যাস, বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের অভিযোগ দূর করে।

মুখের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতার জন্যও সবুজ মটরশুঁটি ব্যবহার করা হয়। এটিকে কাঁচা পিষে স্ক্রাবের মতো মুখে লাগান, হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন বা ফেসিয়াল হিসেবে ব্যবহার করুন। এটি মুখে তাত্ক্ষণিক উজ্জ্বলতা এবং সতেজতা দেয়।

মুখের দাগ ও দাগ দূর করতে দুধের সাথে সেদ্ধ মটর ও কমলার খোসা মিশিয়ে পিষে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগান। এতে মুখও পরিষ্কার হবে এবং দাগ ও দাগও দূর হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি খুব উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার পাওয়া যায়, যা শরীরে উপস্থিত চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

সকালের খাবারে মটরশুঁটি খেতে পারেন। এতে উপস্থিত ফাইবারের কারণে আপনি সারাদিন এনার্জিতে ভরপুর থাকবেন।

মটরশুঁটিতে উপস্থিত ভিটামিন সি চুল পড়া রোধ করে এবং শুষ্ক চুলও সারিয়ে তোলে। এতে উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২ এবং ফলিক অ্যাসিড রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে সাহায্য করে। এই কারণে মস্তিষ্কে সঠিক ও স্বাভাবিকভাবেই অক্সিজেনের পরিমাণ পৌঁছায়। এর ফলে দ্রুত মাথায় চুল গজায় এবং ঝরেও কম।

যারা সব সময় ক্লান্তিবোধ করেন, তাদের অবশ্যই মটরশুঁটি খাওয়া উচিত। সবুজ মটর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। ক্লান্তির সমস্যাও দূর করতে এর কোনও বিকল্প নেই। আসলে মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি প্রদান করে।

(ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :