আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ফাঁকা তিন পদ পূরণ কবে?

মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ মে ২০২২, ১৩:৫৫ | প্রকাশিত : ২১ মে ২০২২, ১৩:৪৯

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের তিনটি পদ এখনো শূন্য। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলের পরবর্তী সম্মেলন সময়মতো হবে। আর তার আগেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির আড়াই বছর ধরে শূন্য থাকা তিনটি পদ পূরণ করা হবে।

২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিল অধিবেশন হয়। সে হিসেবে আড়াই বছর পার হয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পর পর জাতীয় সম্মেলন হয়। বিগত দুটি সম্মেলন সময়মতই হয়েছে।

গঠনতন্ত্রের ২৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় কমিটি, কার্যনির্বাহী সংসদ বা অন্য কোনো কমিটি বা সংসদীয় বোর্ডের সদস্যপদ বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকর্তার পদ শূন্য হইলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ উক্ত পদ শূন্য হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কো-অপশন বা মনোনয়ন দ্বারা উক্ত শূন্যপদ অবশ্যই পূরণ করিবে।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলটির সব পদই পূর্ণ হয়ে গেছে। শুধু ৩টি সদস্য পদ খালি আছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলটির সভাপতিমণ্ডলীর মোট পদ ১৭টি। এর বাইরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে এই পর্ষদের সদস্য।

এর মধ্যে মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন ও আবদুল মতিন খসরু মারা গেছেন। ফলে তাদের জায়গায় খায়রুজ্জামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলামকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলামকে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য করা হয়। আর আগেই খায়রুজ্জামান লিটনকে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতির নির্দেশে সবশেষ বিপুল ঘোষকে সদস্য করা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ৩টি সদস্য পদ খালি আছে, সেগুলোর বিষয়ে দলের সভাপতি সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী বিপুল ঘোষকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন ৪টি সদস্য পদ খালি ছিল। বর্তমানে ৩টি খালি থাকা পদের সবকটিই সদস্য পদ।

এই তিন শূন্য পদের বিষয়ে জানতে ঢাকাটাইমস আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের সব কার্যক্রম চলবে। সভাপতির নির্দেশে দলের সম্মেলন সঠিক সময়েই হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সব সিদ্ধান্ত একমাত্র শেখ হাসিনাই নিবেন। উনি যখন যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে যেকোনো সময় সদস্য করবেন। তবে আগামী সম্মেলনের আগেই এ পদগুলো পূরণ করা হবে। সভাপতি যে কোনো সময় এ পদগুলোতে যোগ্য কাউকে আসীন করবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে নবম বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো পুনর্নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। কমিটিতে আগের কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সব সদস্যকে বহাল রাখার পাশাপাশি জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও শাজাহান খানকে যুক্ত করা হয়। এতে সভাপতিমণ্ডলীর সব কটি পদ পূরণ হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ধর্ম এবং শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদকসহ চারটি পদ ফাঁকা রাখা হয়েছিল। সেই ফাঁকা পদে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে দলের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং সিরাজুল মোস্তফাকে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হয়।

তখনো কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দুটি সদস্য পদ খালি ছিল। ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের দুই সদস্য মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এতে সদস্য মনোনীত হন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

২১তম জাতীয় কাউন্সিলে দেওয়া ক্ষমতাবলে এই দুই জনকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সবশেষ গত ১২ মে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা বিপুল ঘোষকে সদস্য করায় এখন দলটির ৩টি সদস্য পদ খালি রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১মে/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :