‘দর্শক যে প্রত্যাশা নিয়ে হলে আসবেন সেটা পূরণ হবে’

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১০:৩৭ | প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০২২, ১০:৩৪

ঢালিউডের এই সময়ের অন্যতম ব্যস্ত একজন অভিনেতা নিরব হোসেন। তার শোবিজে যাত্রা শুরু হয়েছিল র‌্যাম্প মডেলিং দিয়ে। সেখান থেকে নাটকে পরে চলচ্চিত্রে ডাক পান। ২০০৯ সালে শাহীন-সুমনের পরিচালনায় মন যেখানে হৃদয় সেখানে ছবিটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন নিরব। এরইমধ্যে উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় ছবি।

২০১৭ সালে ‘শয়তান’ নামে একটি ‘বলিউড’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন নিরব। আগামী শুক্রবার (১৭ জুন) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই নায়কের নতুন ছবি ‘অমানুষ’। পরিচালক অনন্য মামুন। সেখানে নিরবকে ডাকাতের ভূমিকায় দেখা যাবে। এই ছবি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে নিয়ে ঢাকাটাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেতা। আলাপচারিতায় ছিলেন লিটন মাহমুদ আরিফ হাসান

এক দিন পরই মুক্তি পাচ্ছে ‘অমানুষ’। প্রস্তুতি কেমন?

ছবির প্রচারণা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটছে। একটা ছবি যখন মুক্তি পায়, দর্শকদের কাছে ছবিটি পৌঁছে দিতে এর প্রমোশনাল যে কাজগুলো থাকে, সেগুলো নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। কারণ, আমরা চাই মানুষ হলে গিয়ে ছবিটি দেখুক। এখন তো দর্শকদের হলে গিয়ে ছবি দেখার অভ্যাস কমে গেছে। অনেক ছবি মুক্তি পায় এক সপ্তাহ চলে, পরে চলে না। এজন্য আমরা চেষ্টা করি দর্শকদের রিচ করাতে। সেই কাজেই ব্যস্ত।

‘অমানুষ’ নিয়ে প্রত্যাশা কেমন?

প্রত্যাশা অনেক বেশি। ছবিটির লুক, পোস্টার, ট্রিজার, ট্রেলার দেখে সবাই অনেক প্রশংসা করেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, দর্শক যারা হলে আসবেন, তাদের কাছেও অবশ্যই ছবিটি ভালো লাগবে। তারা যে প্রত্যাশা নিয়ে হলে আসবেন, আশা করি সেটা পূরণ হবে।

প্রথমবার ডাকাত চরিত্রে অভিনয় করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?

অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। কারণ, চেলেঞ্জিং একটা ক্যারেক্টর ছিল। মামুন ভাইয়ের সহযোগিতায় চরিত্রটির জন্য লুক, গেটআপে পরিবর্তন এনেছি। ডাকাতের চরিত্রের জন্য বডি ল্যাংগুয়েজ থেকে শুরু করে সবকিছুর মধ্যে যে চেঞ্জিংগুলো আনার দরকার ছিল সেগুলো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমার জায়গা থেকে আমি শতভাগ চেষ্টা করেছি।

বন্ধু মিথিলার সঙ্গেও বড়পর্দায় প্রথমবার কাজ করেছেন। বোঝাপড়াটা কেমন ছিল?

মিথিলার সঙ্গে আমার অনেক আগে থেকে পরিচয়। আগে কাজও করেছি তার সঙ্গে। তের-চৌদ্দ বছর আগে আমরা একসঙ্গে বিজ্ঞাপন করেছি, ফটোশুট করেছি। দুটি বিজ্ঞাপন করেছি, একটা অমিতাভ ভাইয়ের ও অন্যটি তারেক আনাম খানের। তার সঙ্গে আমার আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। এবার চলচ্চিত্রে কাজ করলাম। আমাদের বোঝাপড়ার জায়গাটা ভালো ছিল।

ছবিতে মিথিলার কাজ দেখে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?

মিথিলা অনেক গুণী একজন অভিনেত্রী। খুবই ন্যাচারাল অভিনয় করে। চরিত্রে নিজেকে সুন্দরভাবে মেলে ধরতে পারে। ‘অমানুষ’ এর নুদরাত চরিত্রটি সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য অন্যান্য শিল্পীদের মতো সেও অনেক পরিশ্রম করেছে। খুবই ভালো লেগেছে তার কাজ আর চেষ্টা।

‘অমানুষ’-এ এমন কী আছে, যার জন্য দর্শক হলে যাবে ছবিটি দেখতে?

এই ছবিতে আমরা চার দেওয়ালের ভেতরকার গল্পগুলো থেকে বেরিয়েছি। ছবির কনসেপ্ট পুরোটাই আউটডোর বেইজড। এর প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের চোখের আরাম দিবে। লুক অ্যান্ডন্ড ফিল-এও নতুনত্ব পাবে। ট্রেলার, ট্রিজারে এরইমধ্যে সেই ধারণা পেয়েছেন দর্শক।

ছবিটির শুটিং হয়েছে বনে জঙ্গলে। কাজ করতে গিয়ে কোনো অসুবিধার মুখে পড়েছেন কি?

ছবিটির গল্পই আউটডোর বেইজ। এর পুরো শুটিংয়ে অমানুষিক কষ্ট করতে হয়েছে। দৈনিক জংগলের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। সেখানে প্রচুর গরম ছিল। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গভীর জঙ্গলে থাকতে হয়েছে পুরো ইউনিটকে। বলতে গেলে, তিন সপ্তাহের বেশি সময় শহরের কোলাহল দেখিনি।

বর্তমানে সিনেমা শিল্পের যে দুরাবস্থা, তা থেকে উত্তরনের উপায় কী?

আমার কাছে মনে হয়, এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ভালো সিনেমার কোনো বিকল্প নেই। ঈদের পরে কী হয়েছে সেটা বলতে পারব না। তবে আমার বিশ্বাস, ‘অমানুষ’ দেখতে মানুষ হলে আসবে। এবং ছবিটি তাদের ভালো লাগবে। কিছু কিছু ছবি থাকে বারবার দেখলেও নতুন মনে হয়। ‘অমানুষ’ তেমনি একটি ছবি।

নিরব অভিনীত এমন একটি ছবির নাম বলুন, যে ধরনের ছবিতে আবারও কাজ করতে চান।

‘গুরুভাই’ নামের একটি ছবিতে কাজ করেছিলাম। সেটি পরিচালনা করেছিলেন এ কিউ খোকন ভাই। কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘দৃশ্যাবলী’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল চলচ্চিত্রটি। এই ধরনের সিনেমায় আরও কাজ করতে ইচ্ছা হয়।

এক যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার। নিজেকে কতটুকু সফল মনে করেন?

নিজেকে এখনো সফল মনে করি না। এখনো কাজ করছি। স্ট্রাগল করছি। আমার জায়গা থেকে মনে হয়, আমি ভালো কাজগুলো করছি, ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি এবং ভালো কাজ করার জন্য যে জিনিসগুলো দরকার সেগুলো বুঝতেছি।

অভিনয়কে ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

যে কাজগুলো করছি, সেগুলোকে ভালো একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এমন জায়গায় নিজেকে নিতে চাই, যেন একটি ছবি থেকে পরেরটি ভালো হয়। সেটা থেকে তারপরেরটা আরও ভালো হয়। ভালো ভালো কাজ করতে চাই। দর্শকদের ঠকাতে চাই না। দর্শকদের ভালো কাজ উপহার দিতে চাই।

হাতে থাকা কাজগুলো সম্পর্কে বলুন

সরকারি অনুদানের দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সে দুটি হলো ‘ছায়াবৃক্ষ’ ও ‘ফিরে দেখা’। এছাড়া ‘রোদ্র ছায়া’, ‘ক্যাসিনো’, ‘কয়লাস’হ আরও কিছু ছবির কাজ হাতে রয়েছে।

আসছে কোরবানির ঈদে নিরব অভিনীত কোনো ছবি মুক্তির সম্ভাবনা আছে?

এখনো বলতে পারছি না। এ ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা এখনো হয়নি।

(ঢাকাটাইমস/১৫ জুন/এএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :