প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ মামলার আসামি পিন্টু গ্রেপ্তার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ১৬:৪১ | প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০২২, ১৬:৩৪

দিনাজপুরে যাওয়ার সময় ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিন্টু অস্ত্রসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ১৯টি মামলা হয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে পাবনা-কুষ্টিয়া অঞ্চলে সর্বহারা ও চরমপন্থি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই পিন্টু।

র‌্যাব জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ২০১৯ সালে পিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আত্মগোপনে যান পিন্টু। একসময় তিনি পাশ্ববর্তী দেশ ভারত পালিয়ে ছিলেন। পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থেকেছেন। পিন্টু পাবনা অঞ্চলের প্রভাবশালী চরমপন্থি দলের প্রভাবশালী সদস্য বলে ধারণা র‌্যাবের। তাছাড়াও পিন্টুর নিজেরও একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল।

রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাবার পথে ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে পৌঁছলে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বগিকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ওই ঘটনায় ঈশ্বরদীর জিআরপি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিলে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ৩ এপ্রিল ১৯৯৭ সালে মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে ৫ জন আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদেরকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে বাকি ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঈন বলেন, জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অরাজকতা চলত। ১৯৮৮ সালে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ওই সকল মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এলাকা ত্যাগ করে ২০০৪ সাল থেকে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করেন। তার পরিবার ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত ঈশ্বরদীতে যাতায়াত করতেন। তিনি ২০১৫ সালে ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।

পিন্টুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে চম্পা হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি এবং ২০০৯ সালে ঈশ্বরদীতে আজম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে অস্ত্রসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা আছে। সেই মামলায় তিন মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফেরারি হন। ওই মামলায় আদালত তাকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

পিন্টুর বিরুদ্ধে ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে জন্য বিভিন্ন থানায় দশটি মামলা হয়। এপর্যন্ত তার নামে একটি মৃত্যুদণ্ড ও একটি ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা পরোয়ানা ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। রায় ঘোষণার পরের দিনই তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতে আত্মগোপনে যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ঢাকা, রাজশাহী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ কক্সবাজারের টেকনাফে তার বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‌্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পিন্টুর রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, যে সময় হামলার ঘটনা ঘটেছিল তখন পাবনা কুষ্টিয়া অঞ্চলে ছিল সর্বহারা ও চরমপন্থিদের আধিপত্য। তবে মামলায় ধরনে বলা যায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ১৯৮৮ সাল থেকে তার সন্ত্রাসী হামলা কর্মকাণ্ড রয়েছে।

পিন্টু ২০১৫ সালের ঈশ্বরদী অঞ্চলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন। তিনি চরমপন্থি দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিশদ জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে স্পষ্ট হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকাটাইমস/২৬মে/এসএস/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :