আশুলিয়ায় অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০২২, ২০:৪২

সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়কে রিকশার জন্য আলাদা লেন এবং হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক মামলা প্রদান বন্ধে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা চালক ও শ্রমিকরা। এসময় আশুলিয়া থানা পুলিশ এসে তাদের মহাসড়ক থেকে সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বলেন। একপর্যায়ে কয়েকজন রিকশা শ্রমিককে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ উঠে। এতে শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের মাঝে এনে এবং টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় আশুলিয়া থানা থেকে পুলিশের অপর একটি দল এসে শ্রমিকদের সরে যাওয়ায় নির্দেশ দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত শ্রমিকেরা কয়েকটি যাত্রী পরিবহন বাসের কাঁচ ভাঙচুর করে। পুলিশের পাশাপাশি লাঠি হাতে বেশ কয়েকজন যুবকও শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। পরে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে সক্ষম হলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

এসময় আন্দোলনরত রিকশাচালকরা বলেন, আমরা রিকশা নিয়ে মহাসড়কের আশেপাশে আসলেই হাইওয়ে পুলিশ আমাদের রিকশা ধরে ২৬০০ টাকা জরিমানা করেন। এক মাসে কয়েকবার পর্যন্ত জরিমানা আদায় করে পুলিশ। আমরা গরিব মানুষ, প্রতি সপ্তাহে যদি ২৬০০ টাকা দেই, তাহলে আমরা কীভাবে চলব। আমাদের রিকশা ধরলে আন্দোলন চলমান থাকবে।

সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতেই হবে। তারা চাঁদাবাজির যেসব অভিযোগ করছেন তা একেবারেই ভিত্তিহীন। তাদের কাছ থেকে পুলিশ কোন চাঁদা নেয় না। অবৈধভাবে সড়কে উঠলে তাদেরকে মামলা দেয়া হয়। আর মামলার টাকা পরিশোধ করলে প্রত্যেককে রিসিটও দেয়া হয়। আর এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ না করে হঠাৎ সড়ক অবরোধ করার ব্যাপারটা কোনভাবেই কাম্য নয়। শক্ত হাতে সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা করায় অনেকই অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাদেরই কেউ শ্রমিকদের হয়তো ব্যবহার করছে।

তিনি আরো বলেন, আইন না মানায় হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু শ্রমিকদের ধারণা শুধু হাইওয়ে পুলিশই তাদের যানবাহন আটকায়। এ ব্যাপারে যথাস্থানে খবর না নিয়েই হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলেন তারা।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, রাস্তায় বিক্ষোভকারী রিকশা শ্রমিকদের বলেছি চাঁদাবাজি সংক্রান্ত যদি সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকে তাহলে প্রয়োজনে সেটি আমাদেরকে জানান। সোমবারের ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে ইটের আঘাতে আমাদের একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৭জুন/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :