প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: ঢাকাটাইমসকে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন

বোঝাপড়াটা যেন পরিষ্কার থাকে খেয়াল রাখতে হবে

ওমর ফারুক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৮ | প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪৪

রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সফরটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট এবং বাংলাদেশ ও ভারতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সফরটিতে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করছে।

এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বোঝাপড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিও সামনে আসছে অবধারিতভাবে।

তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন, সেপা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের বোঝাপড়াটা যেন পরিষ্কার থাকে, সেটি খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। ঢাকাটাইমসের সঙ্গে আলাপে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতি সম্পর্কেও কথা বলেন। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। সে সফরে বেশ কিছু অর্জন এবং নতুন কিছু ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়। বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক একটি জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে।

ড. দেলোয়ার বলছেন, ‘আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। একসময় মনে করা হতো, ভারতে কেবল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকলেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন যে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের গভীরতা চলমান থাকবে কি না। পরে সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।’

২০০৮-০৯ সালের দিকে দুই দেশের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ছিল, যা এখন ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) চুক্তির বিষয়ে অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, ‘এ চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়। আমরা অন্যান্য দেশ থেকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখন যে অগ্রাধিকার পাই, ২০২৬ সালের পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেটা হয়তো পাব না। সেক্ষেত্রে যদি ভারতের সঙ্গে আমাদের সেপা চুক্তি হয়ে থাকে, সেটি আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। দুই দেশের বিনিয়োগ বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি নতুন ভূমিকা রাখবে।’

বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যেই এই সেপা চুক্তি রয়েছে, যা আন্ত-অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে বলে জানান এই আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। যদিও গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। তবুও দেশের অর্থনীতিতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবেলায় সেপা চুক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’

পানি চুক্তি ও কূটনীতি বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইতিমধ্যে জয়েন্ট রিভার কমিশনের (জেআরসির) বৈঠক হয়েছে। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার স্বাক্ষর করার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক কিছু বাধা আছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। ২০১২ সালে এই চুক্তি প্রায় হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, এই প্রতিবন্ধকতার কারণে শেষমেশ তা ভেস্তে যায়। আমি আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এবারও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে তাগিদ দেবেন।

‘পানি কূটনীতিতে নতুন পরিবর্তন এসেছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। পাশাপাশি সামনে গঙ্গার পানিচুক্তি তার ৩০ বছর মেয়াদ অতিক্রম করবে। সেটি নবায়ন করার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। অর্থাৎ পানিচুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।’

প্রতিরক্ষা সমঝোতা (এমওইউ) বিষয়ে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এমওইউ-এর আওতায় ভারত বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা হবে। ভারতের এ বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে সেটি হয়তো পূর্ণতা পাবে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়াটা যেন পরিষ্কার থাকে, সেটি খেয়াল রাখা উচিত।’

চলমান জ্বালানি সংকটে জ্বালানি হাব গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ সম্পর্কে ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দেশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা আদানির বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে। ভারতের এ জ্বালানি সহায়তার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশ একটি হাব হয়ে উঠতে পারে।

‘ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বাংলাদেশের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। বাংলাদেশের যে একটি উপযোগিতা আছে সেটি আমরা ব্যবহার করতে চাই। ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে জ্বালানি বিষয়ক চুক্তি-সমঝোতা হলে সেটি দুই দেশেই জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা রাখবে।’ বলেন ড. দেলোয়ার হোসেন।

(ঢাকাটাইমস/০৪সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :